মিডটার্ম নির্বাচন, বৈশ্বিক সংকট ও ওয়াশিংটনের রাজনীতি: একজন আমেরিকান নাগরিকের ভাবনা

আকবর হায়দার কিরন

০২ অক্টোবর ২০২৬

মিডটার্ম নির্বাচন, বৈশ্বিক সংকট ও ওয়াশিংটনের রাজনীতি: একজন আমেরিকান নাগরিকের ভাবনা

Akbar Haider Kiron

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মিডটার্ম নির্বাচন এখন একেবারে দোরগোড়ায়। একজন সচেতন আমেরিকান নাগরিক হিসেবে নিউ ইয়র্কে বসে যখন বর্তমান বিশ্বরাজনীতি ও আমেরিকান সমাজজীবনের চালচিত্র পর্যবেক্ষণ করি, তখন গভীর এক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ওয়াশিংটনের বৈদেশিক নীতি, ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আমেরিকান সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন—সবকিছু যেন এক জটিল জটলা তৈরি করেছে।

মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের চ্যালেঞ্জ ও আসন হারানোর ঝুঁকি:

আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেশ কিছু আসন হারানোর জোরালো শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকান রাজনীতির একটি মৌলিক নিয়ম হলো, সাধারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত বিচার করেন তাঁদের পকেটের পরিস্থিতি দেখে—যা মার্কিন রাজনীতিতে ‘পকেটবুক ইকোনমিক্স’ নামে পরিচিত। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ (House) ও সেনেট (Senate)-এর গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের জন্য জয় ছিনিয়ে আনা এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইরানের সাথে যুদ্ধ ও তেলের বাজারের ঊর্ধ্বগতি :

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং ইরানের সাথে যুদ্ধপরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় গ্যাস স্টেশন থেকে শুরু করে সুপারমার্কেটের গ্রোসারি পণ্যে। একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা চাই বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক। কিন্তু বৈদেশিক নীতি যখন কেবল যুদ্ধের পেছনে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করে আর তার আর্থিক প্রভাব এসে পড়ে দেশের সাধারণ মানুষের কাঁধে, তখন ভোটারদের আস্থা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের রাজকীয় সংবর্ধনা: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের প্রভাব :

ঠিক এই সংকটের মুখেই সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লাল গালিচা ও রাজকীয় সংবর্ধনায় অভ্যর্থনা জানানো হলো। একদিকে চীনকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতির স্থায়িত্ব ধরে রাখার জন্য ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের সঙ্গেই টেবিলে বসতে হচ্ছে। কৌশলগত বাণিজ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চীন যে অনেকখানি এগিয়ে গেছে, তা এখন স্পষ্ট। বেইজিংয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ও সহযোগিতার এই দ্বিমুখী রূপ প্রমাণ করে, অর্থনৈতিক দিক থেকে চীন বিশ্বমঞ্চে কতটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

আমেরিকান নাগরিকের প্রত্যাশা ও শেষ কথা :

একজন সচেতন আমেরিকান নাগরিক হিসেবে আমার বিশ্বাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন তার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি মজবুত থাকে এবং বিশ্বমঞ্চে দূরদর্শী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শিত হয়। আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনে ভোটাররা একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিতে যাচ্ছেন—তা হলো অহেতুক যুদ্ধের উত্তেজনা নয়, বরং দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিকল্পিত কূটনীতিই এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Has India Miscalculated Tarique Rahman?

০৫ এপ্রিল ২০২৬

ভয়ানক শংকার পদধ্বনি

২৮ অগাস্ট ২০২৬