সাংবাদিকদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীদের র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ মে ২০২৬

সাংবাদিকদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীদের র‌্যালি

‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীদের র‌্যালি। ছবি-জাগো প্রহরী।

‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে ৩ মে নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীগণের র‌্যালি থেকে বাংলাদেশে গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং দায়েরকৃত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। আয়োজক হিসেবে ‘নিউইয়র্ক জার্নালিস্ট কমিউনিটি’র ব্যানারে ছিল সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সম্পাদক শ্যামল দত্ত, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মোজাম্মেলন হক বাবু, সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদের ছবি ছিল। নিচে লেখা ছিল ‘ফ্রি অ্যল ইমপ্রিজন্ড জার্নালিস্টস অব বাংলাদেশ, উইথড্র ফল্স কেস এ্যান্ড স্টপ হ্যারেসমেন্ট এগেইন্স জার্নালিস্টস’।

সাংবাদিক পিনাকি তালুকদারের সঞ্চালনায় র‌্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ক্ষোভের সাথে বলেন, ভিন্নমতের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা-মামলা দায়ের এবং বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিককে আটক এবং কয়েকশত সাংবাদিককে গ্রেফতারের টার্গেট করার মধ্য দিয়ে মূলত সাহসি সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধক তৈরী করা হয়েছে বাংলাদেশে। শুধু তাই নয়, অনেক সম্পাদক ও সাংবাদিকের ব্যাংক একাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। তাদের বিদেশে আসতে দিচ্ছে না পাসপোর্ট আটক করে। সিনিয়র সাংবাদিকদের কয়েকজনকে এয়ারপোর্ট থেকে ফেরৎ পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অথচ বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গিকারে মুহম্মদ ইউনূস এবং পরবর্তীতে তারেক রহমান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ফরিদার ইয়াসমিন বলেন, অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সকল সাংবাদিকের মুক্তি এবং দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও দিল্লিতে হাই কমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ বলেন, চর দখলের ন্যায় মিডিয়া হাউজ দখল এবং শতশত সাংবাদিককে বরখাস্ত করার পাশপাশি দুই শতাধিক সাংবাদিকের এক্সিডিটেশন কার্ড কেড়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে এ ধরনের অরাজক পরিস্থিতি আগে কখনো ঘটেনি।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ বলেন, মিথ্যা হত্যা মামলা এবং গ্রেফতারের আতংকে বাংলাদেশের গণমাধ্যক কর্মীরা ভীত-সন্ত্রস্ত। স্বাধীন সাংবাদিকতার ন্যূনতম পরিবেশ নেই। চলছে শুধু চাটুকারিতার প্রতিযোগিতা।

প্রবাসের প্রবীণ সাংবাদিক এম ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মুক্ত সাংবাদিকতার পথ সুগম করতে এই প্রবাস থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে। সাংবাদিক ও সংগঠক মোজাহিদ আনসারী বলেন, গত দুই বছরে সবচেয়ে বেশী সাংবাদিক খুন হয়েছেন গাজায় এবং সবচেয়ে বেশী সাংবাদিক গ্রেফতার ও নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে মুক্ত সাংবাদিকতার পথ থামিয়ে দিয়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থানের পথ সুগম রাখা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক লাবলু আনসার, সমাজ-সংগঠক অধ্যাপক হোসনে আরা, সাপ্তাহিক ঠিকানার বার্তা সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর মাহমুদ, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ। র‌্যালিতে আরো ছিলেন শাহ ফারুক রহমান, শিব্বির আহমেদ, দ্বীপক আচার্য, শামিমা দোলা, উত্তম সাহা, ওয়াসিউর রহমান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু প্রমুখ।

পবিত্র ঈদুল আযহার আগেই সকল সাংবাদিকে মুক্তি এবং দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করা না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুর্বার আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীরা।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১