নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ মার্চ ২০২৬
ওয়ার্ল্ড থিয়েটার ডে’র সমাবেশের অতিথিদেরকে ক্রিস্টির লগো সম্বলিত উত্তরীয় পরিয়ে দেন সীতেশ ধর। ছবি-জাগো প্রহরী।
‘শান্তির জন্যে নাটক ও সংস্কৃতি’ স্লোগানে গত ২৮ মার্চ নিউইয়র্কে ‘ক্রিস্টি’র উদ্যোগে ‘ওয়ার্ল্ড থিয়েটার ডে’ পালিত হয়েছে। ‘জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস অ্যান্ড লার্নিং’ জেসিএএল-এর মিলনায়তনে দিবসের আলোকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ছাড়াও হোস্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘দ্য গেইম’ এবং ‘হ্যামলেট অ্যান্ড ওফেলিয়া’ নামে দুটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। প্রবাসের নাট্যপ্রেমী এবং দীর্ঘদিন ধরে বহুজাতিক এ সমাজে বাংলা নাটক নিয়ে কর্মরত শিল্পী ছাড়াও ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি বিশিষ্টজনেরা। সমগ্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ‘ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটউট’-এ আইপিসির প্রেসিডেন্ট এবং থিয়েটার কমিউনিকেশন্স গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক টেরেসা আইরিং। তিনি বক্তব্যে মানবতার কল্যাণে মানুষকে নিবেদিত করতে নাটকের অবদানের কথা অকপটে স্বীকার করেন এবং বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৮০টি দেশে মঞ্চ নাটকের ভূমিকার আলোকপাত করেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে রামেন্দু মজুমদারের নামোল্লেখ করে বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট’র সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে নাট্য-কর্মীদের ভূমিকার কথাও জেনেছি। টেরেসা আইরিং এই আয়োজনের জন্যে ক্রিস্টি এবং তার প্রেসিডেন্ট সীতেশ ধরের প্রশংসা করে বলেন, নিউইয়র্কে বাঙালিদের এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে নাট্যাঙ্গনও ক্রমান্বয়ে সরব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাটকার-পরিচালক-প্রযোজক এবং জেসিএএল’র নির্বাহী পরিচালক লিওনার্দ জ্যাকভস। তিনি ক্রিস্টির মতো বাঙালিদের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্যে এই সেন্টারের দরজা সবসময় খোলা বলে মন্তব্য করেন। মানুষ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে যত বেশী জড়িয়ে পড়ে তত বেশী শান্তি-সম্প্রীতির বিকাশ ঘটে। বিশ্ব থিয়েটার ডে উপলক্ষে প্রদত্ত শুভেচ্ছা বার্তা উপস্থাপন করেন সত্যম ধর (ইংরেজিতে) এবং বাংলায় মিতালি দাস।
অনুষ্ঠানে এই সেন্টারের পরিচালক কার্টনী ফ্রেঞ্চও ছিলেন। তিনজনকেই ক্রিস্টির লগো সম্বলিত উত্তরীয় পরিয়ে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। এ সময় অতিথিদেরকে ক্রিস্টির প্রেসিডেন্ট সীতেশ ধর উপহার সামগ্রীও প্রদান করেন। এছাড়া ১৪-১৬ আগস্ট পর্যন্ত ক্রিস্টির তিন দিনব্যাপী দ্বিতীয় নাট্য-উৎসব’র লগো উন্মোচন করেন টেরেসা আইরিং বিপুল করতালির মধ্যে। এটি তৈরী করেছেন সাংস্কৃতিক সংগঠক, নাট্যশিল্পী ও পরিচালক মিথুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নাটক নিয়ে কর্মরত অভিনেতা-অভিনেত্রী-পরিচালক-প্রযোজকদের মঞ্চে নিয়ে বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়। তারা হলেন পরিচালক-অভিনেতা মুজিব বিন হক, রোকেয়া রফিক বেবী, শামসুল আলম বকুল, বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যকার ও পরিচালক সাধনা আহমেদ, নাট্যকার রুমা মোদক, লেখক-অভিনেতা ড. জীবন বিশ্বাস, অভিনেত্রী স্বপ্না কাওসার, অভিনেতা-পরিচালক খায়রোল ইসলাম পাখী, নাট্যকার-পরিচালক মিথুন আহমেদ, অভিনেতা-পরিচালক-নাট্যকার গোলাম সরোয়ার হারুন, অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার, অভিনেত্রী বন্যা মির্জা এবং নাট্যকার-পরিচালক-অভিনেতা নজরুল ইসলাম।
পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন আবিবা ইমাম দ্যুতি এবং শিরিন বকুল। ‘বিশ্ব থিয়েটার ডে’র অনুষ্ঠান শুরু হয় সৈয়দ শামসুল হকের বিখ্যাত কাব্যনাট্য ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ থেকে নেয়া একটি কালজয়ী পঙক্তি ‘জাগো বাহে কোনঠে সবাই’ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। ‘নাটকের গান’ হিসেবে এটির সুরারোপ দিয়েছেন এবং সমবেত কণ্ঠে তা পরিবেশনের সময় নেতৃত্বে ছিলেন ড. জীবন বিশ্বাস। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন মুক্তা ধর, লিটন ফিলিপস, শিপ্রা দেব, দীপা দেবনাথ, সিফাত উদ্দিন পলক ও চামেলী গমেজ।

ক্রিস্টির প্রাণ পুরুষ সীতেশ ধরের পরিচালনা ও নির্দেশনায় ‘দ্য গেইম’ নাটকে মূলত: জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার টানাপোড়েনের ব্যাপারগুলোকে সামনে আনা হলেও বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে শেষ পর্যন্ত জীবনের কাছে মৃত্যু হেরে যায়। লাউজ ব্রায়ান্টের লেখা এবং রুবাইয়াত আহমেদ অনুদিত এই নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে মিশে গিয়ে চমৎকার অভিনয় করেন প্রতিমা সুমি, বসুনিয়া সুমন, সীতেশ ধর এবং শুক্লা রয়। মঞ্চসজ্জায় ছিলেন বিশ্বজিৎ চৌধুরী ও মাহমুদুল হাসান রোকন।
অপর নাটক ‘হ্যামলেট এ্যান্ড ওফেলিয়া’ মঞ্চস্থ হয় মাসুদ সুমনের নির্দেশনায়। এতে অভিনয় করেন মাসুদ সুমন, মুমু মাসুদ, মুসা রুবেল, ফিলিপ লিটন, শেখ তানভির আহমেদ, শ্যাম ঘোষ, এবং ড. জীবন বিশ্বাস। উভয় নাটকে আলোক প্রক্ষেপণে ছিলেন আবু বিপ্লব। ক্রিস্টির উভয় নাটকই আপ্লুত করেছে উপস্থিত সবাইকে। আর একারণেই নিউইয়র্কে মঞ্চ নাটকের দর্শক খরা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে বলে নাট্যপ্রেমীরা আশা করছেন।