প্রবাসীদের মেধা ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসায় নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ মার্চ ২০২৬

প্রবাসীদের মেধা ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসায় নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন

নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশ ডে’র শোভাযাত্রায় সিনেটর-এ্যাসেম্বলীমেনদের সাথে প্রবাসীরা। ছবি-জাগো প্রহরী।

লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর উচ্ছ্বল উপস্থিতিতে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউজে গত ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপিত হয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে প্রতিটি স্বাধীনতা দিবসেই নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনীতে নানা আয়োজনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ডে’ হিসেবে। এবারও স্টেট সিনেটে গত ১০ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের ওপর রেজ্যুলেশন পাস হয়। যেখানে স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম এবং বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার বার্তা রেডিওতে পাঠের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসও স্থান পেয়েছে বরাবরের মতই। স্টেট সেক্রেটারি আলেজান্দ্রা এন পোলিনো স্বাক্ষরিত এবং নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষিত ২৬ মার্চকে নিউইয়র্ক স্টেটে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস’র রেজ্যুলেশনের শেষ প্যারায় ‘নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার একটি বার্তা প্রচার (রেডিও-তে) করেন’। এই রেজ্যুলেশনের কপি অনুষ্ঠানে সমবেত প্রবাসীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

Bangladesh_Day

দিবসটি উদযাপনের জন্য গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার এলাকার ইউনিয়ন পোর্ট রোড থেকে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীর উদ্দেশ্যে একটি বাস ও দু’টি প্রাইভেট কারে প্রবাসীরা স্টেট হাউজে জড়ো হন। বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ আলবেনিতে পৌঁছান সকাল ১১টায়। এসময় সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ও সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশিরা ‘বাংলাদেশ ডে’ ব্যানার হাতে সিনেট ভবন এলাকায় সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রায় অংশ নেন। সিনেট ভবনের লবিতে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপনকারীদেও নিয়ে ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়। ফটোসেশনে অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইসও অংশ নেন। এরপর মধ্যাহ্ন ভোজ পরিবেশন করা হয়।

সিনেট ভবনের ফ্লোরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্মানে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ, সিনেটর জন ল্যু, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইস প্রমুখ। এসময় বিভিন্নজনকে কমিউনিটি সার্ভিসে অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

Bangladesh_Day-3

‘বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস’ বাফা’র মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ইভেন্ট কমিটির আহ্বায়ক মো. শামিম মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আবদুস শহীদ, প্রধান সমন্বয়কারী আবদুর রহিম বাদশা, কমিটির মুখপাত্র ইমরান শাহ রন, চেয়ারম্যান জুনেদ আহমেদ চৌধুরী, কো-চেয়ারম্যান রোকন হাকিম ও সামাদ মিয়া জাকারিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক শামিম আহমেদ, সদস্য সচিব এ ইসলাম মামুন, যুগ্ম সদস্য সচিব রেজা আব্দুল্লাহ, উপদেষ্টা সাখাওয়াত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আহমেদ, এডভোকেট রেদওয়ানা রাজ্জাক ও সরাফত আলী পাটোয়ারী, সমন্বয়কারী নুরল ইসলাম মিলন ও মুনতাসিম বিল্লাহ তুষার, সদস্য জামাল আহমদ, সাদিকুর রহমান প্রমুখ।

পরে বিকেল সাড়ে তিনটায় সিনেট অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ ডে’ রেজুলেশন পঠিত হয়। সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিবরণ তুলে ধরেন। সে সময় তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মার্চে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধেও নয় মাসে বাংলাদেশিদের আত্মত্যাগ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বাংলাদেশি মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির কথা সবিস্তারে উপস্থাপন করেন।

এসময় ‘বাংলাদেশ ডে’ উপলক্ষে রেজ্যুলেশনের ওপর আলোচনায় আরো অংশ নেন স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, সিনেটর জন ল্যু, সিনেটর জেসিকা রামোস, সিনেটর রবার্ট জ্যাকসনসহ বেশ ক’জন সিনেটর। স্টেট সিনেটররা তাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। বক্তব্যে সিনেটররা বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। সিনেট গ্যালারি এদিন সংরক্ষিত ছিল বাংলাদেশিদের জন্যই।

উদযাপন কমিটি নেতৃবৃন্দ জানান, বাংলাদেশ ডে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সম্মানার্থে স্টেটের পক্ষ থেকে এক বিশেষ আয়োজন। দলমত নির্বিশেষে প্রবাসীরা বাংলাদেশ ডে’র নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, নিউইয়কর্ স্টেট সিনেটে ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ ডে’ রেজ্যুলেশন সর্বপ্রথম পাস হয় ২০১২ সালের ২৪ মার্চ। ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত সাবেক সিনেটর রুবিন ডিয়াজের মাধ্যমে সেটি পাস হয়। তাকে সে সময় রেজুলেশন তৈরি করতে সহযোগিতা করেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ‘লুইসভাই’ হিসেবে পরিচিত অ্যাটর্নি লুইস সিপুলভেদা (বর্তমান সিনেটর)। তাকে সহায়তা করেন ব্রঙ্কস বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।

স্মরণ করা যেতে পারে, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস ও বাংলাদেশি কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে ২০১২ সালে বাংলাদেশের ৪১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয় ব্রঙ্কসের একটি রেস্টুরেন্টে। প্রয়াত কমিউনিটি সংগঠক জাকির খানের আমন্ত্রণে রুবিন ডিয়াজ ও লুইস সিপুলভেদা ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের সভাপতি মোহাম্মদ এন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের তৎকালীন সভাপতি মাহবুব আলমের প্রস্তাবনায় ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১