নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
Jabez Chakraborty
২২ বছর বয়সী ছেলে জাবেজ চক্রবর্তীকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য ২৬ জানুয়ারি সকালে অ্যাম্বুলেন্স কল করেছিলেন জুলি চক্রবর্তী। এর পরিবর্তে উল্টো দাঙ্গা পুলিশ এসে চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে জাবেজকে। শুধু তাই নয়, গুলিবিদ্ধ জাবেজের মা, বোন ও দাদিকে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে (১০৭ নম্বর প্রেসিঙ্কট) নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে সময় তাদের সেলফোন কেড়ে নিয়ে পাসওয়ার্ডও জেনে নেয়ার পর তল্লাশি চালানো হয় যে, জাবেজসহ পরিবারের কেউ সন্ত্রাসী চক্র কিংবা দুর্বৃত্তপনায় লিপ্ত কিনা। এমনকি পরিবারের সদস্যদের অভিবাসনের মর্যাদা সম্পর্কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জাবেজের মা জুলি চক্রবর্তী আরো উল্লেখ করেছেন যে, নিউইয়র্কের পুলিশ আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস অ্যানফোর্সমেন্ট) মতো নির্দয় আচরণ করবে তা ধারণাতেও ছিল না। নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় পারসন্স বুলেভার্ড এলাকায় ৮৫ এভিনিউতে ঘটা এই গুলিবর্ষণের ঘটনার পর পুলিশের নিষ্ঠুর আচরণকে অভিবাদন জানিয়ে মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, তারা অত্যন্ত সাহস ও বিচ্ক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চে নিউইয়র্ক সিটির ওজোনপার্কে উইন রোজারিও (১৯) নামে আরেক বাংলাদেশি খ্রিষ্টান তরুণকে মা-ভাইয়ের সামনে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। জুলি চক্রবর্তী বিস্মিত হয়েছেন যে, তার ছেলেকেও একইভাবে হত্যার চেষ্টা করা হলো। এ অভিযোগ সম্পর্কে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানায়, পুলিশ ওই বাসায় পৌঁছার পর জাবেজের কাছে যেতে চাইলে জাবেজ রান্না ঘরে ব্যবহৃত একটি চাকু হাতে নিয়েছিল এবং পুলিশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন বলেও পুলিশ তাকে গুলি ছুড়েছে। এর বেশী কিছু বলতে চায়নি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস কারণ এটি তদন্তাধীন একটি বিষয়।
উল্লেখ্য, উইন রোজারিওর মতো জাবেজও বাংলাদেশি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্য। গত বড়দিনের অনুষ্ঠানে জাবেজকে বেশ প্রফুল্ল দেখা গেছে।
অ্যাম্বুলেন্স ডাকার পর বাসায় পুলিশ এসে উপর্যুপরি গুলিবর্ষণে জাবেজকে গুরুতরভাবে আহত করার ঘটনায় কমিউনিটিতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের আচরণের ব্যাপারে জুলি চক্রবর্তীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ এশিয়ান-আমেরিকানদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত সংস্থা ‘ড্রাম’ দেশীজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং)। ড্রামের সংগঠক সিমরান থিন্ড ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে হাসপাতালের উদ্ধৃতি দিয়ে এ সংবাদদাতাকে জানান, জাবেজের অবস্থা সংকটাপন্ন এবং জ্যামাইকা হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। সিমরান থিন্ড আরো জানান যে, জাবেজের শরীরে অন্তত চারটি বুলেটের ক্ষত রয়েছে।
জুলি চক্রবর্তী কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির সহযোগিতা চেয়েছেন গুলিবর্ষণের জন্য দায়ী পুলিশ অফিসারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর লক্ষ্যে।
এদিকে জাবেজকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়ার পরিবর্তে কাছাকাছি দূরত্ব থেকে চার রাউন্ড গুলিতে আহত করার সংবাদে ক্ষুব্ধ গোটা কমিউনিটি।