আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ জানুয়ারি ২০২৬
Antonio Guteres
জাতিসংঘ ‘আসন্ন অর্থনৈতিক ধসের’ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বসংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ সদস্যরাষ্ট্রগুলো ফি না দেওয়াতে এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। মহাসচিব গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সংকট গভীর হচ্ছে। এতে সংস্থার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই।
তিনি জাতিসংঘের ১৯৩ টি সদস্যদেশের কাছে চিঠি লিখে সংস্থাটিতে তাদের বাধ্যতামূলক ফি প্রদানের নিয়ম মেনে চলা নতুবা ধস ঠেকাতে সংস্থার অর্থনৈতিক নিয়মকানুন রদবদল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশি তহবিলের যোগান দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থার নিয়মিত কার্যক্রম এবং শান্তিরক্ষা খাতে আর অর্থ দিতে না চাওয়ায় এবং কয়েকটি সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘে তহবিল জোগানোকে ‘করদাতাদের দেওয়া ডলারের অপচয়’ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের আরও কয়েকটি সদস্যদেশও ফি বকেয়া রেখেছে কিংবা ফি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
২০২৫ সালের শেষ দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সংস্থার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আংশিক পরিবর্তন অনুমোদন করলেও এখনও ব্যাপক অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্কীকরণ চিহ্ন ঝুলানো হয়েছে জেনিভায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের প্রতিটি জায়গায়। তাছাড়া অর্থ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় জাতিসংঘের এসকেলেটেরগুলো নিয়মিতই বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং হিটিংও কম করে রাখা হচ্ছে।
গুতেরেস চিঠিতে লিখেছেন, জাতিসংঘ অতীতেও অর্থসংকটে পড়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি “স্পষ্টতই ভিন্ন।” ২০২৫ সালে রেকর্ড পরিমাণ তহবিল জমা পড়েনি জানিয়ে গুতেরেস বলেন, এই বকেয়ার পরিমাণ মোট ৭৭ শতাংশ।
জাতিসংঘ সংস্থাগুলো মানবিক সংকট সামাল দেওয়ার জন্য যত অর্থ চায় ততটা পায় খুব খমই। কিন্তু গত ১২ মাস সংস্থাটির জন্য বিশেষভাবে কঠিন সময় গেছে। সবচেয়ে বড় দাতাদেশ যুক্তরাষ্ট্র অর্থ যোগান দেয়নি।
যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো দেশগুলো বৈদেশিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতিসংঘের কার্যক্রমে। গুতেরেস এর আগে ডিসেম্বরেও সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, জাতিসংঘ কয়েকবছরের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখে আছে।
তখনও তিনি বকেয়া পরিশোধ না হওয়ার কথা বলেছিলেন। আর এর আগে অক্টোবরে তিনি বলেছিলেন, জাতিসংঘ দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে।