এবার নিউইয়র্কে হবে ফোবানা সম্মেলন, বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ এপ্রিল ২০২৬

এবার নিউইয়র্কে হবে ফোবানা সম্মেলন, বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফোবানার চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী। ছবি-জাগো প্রহরী।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে উৎসর্গ এবং ‘চেতনায় ৭১-হৃদয়ে বাংলাদেশ’ স্লোগানে নিউইয়র্কে আসছে লেবার ডে উইকেন্ডে (৪-৬ সেপ্টেম্বর) ৪০তম ফোবানার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসে সানাই পার্টি হলে ফোবানার সেন্ট্রাল কমিটি ও হোস্ট কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে আরো বলা হয় যে, সম্মেলনের ভেন্যু হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়াস্থ ‘ইভাঞ্জেল ক্রিস্টিয়ান সেন্টার’। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে হোস্ট কমিটির সদস্য-সচিব মঞ্জুর কাদের বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের শেকড়ের সংযোগ স্থাপন, বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। আরো বলা হয়, উত্তর আমেরিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিশিষ্টজনদের সম্মাননা প্রদান, ব্যবসা ও নেটওয়ার্কিং সেশন, নারী ক্ষমতায়ন, ইমিগ্রেশন সম্পর্কিত সেমিনারও হবে বিভিন্ন পর্বে। প্রতিদিনই থাকবে বাংলা সংস্কৃতির জগতে খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনা।

49th Fobana Convention in NY

স্বাগত বক্তব্যে হোস্ট কমিটির আহবায়ক নূরল আমিন বাবু বলেন, গত ৩৯ বছরের ফোবানার ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে বর্তমানের পরিস্থিতির আলোকে আমরা আরো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে ফোবানার চেতনাকে সমগ্র কমিউনিটির মধ্যে বিস্তৃত করতে চাই। নুরল আমিন বাবু বলেন, বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে সবাইকে একত্রিত করে আমরা যদি কিছু করতে পারি তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বুঝবে, গর্ব করবে। আমরা সবাই মিলে এবারের ফোবানাকে সফল করতে চাই। আমি হিন্দু না মুসলিম সেটা জানতে চাই না, আমি জাতে বাঙালি। আমার প্রচেষ্টা হবে যেন আমার পরবর্তী আমাকে ভুলে না যায়।

ফোবানার নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনে সেই প্রজন্ম নিজেদের ভুল এখন শুধরে নিচ্ছেন। এবারের ফোবানা তেমন একটি পরিক্রমায় প্রবাস প্রজন্মকেও সংগঠিত করতে চায় এবং সে আলোকেই সবকিছু সাজানো হচ্ছে। আশা করছি প্রবাসের গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পরিপূর্ণ সহযোগিতা পাবো। প্রশ্নোত্তর পর্বে জাকারিয়া উল্লেখ করেন, হোস্ট কমিটিতে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও আছেন। সকলে একযোগে কাজ করছি।

কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সচিব দেওয়ান মনিরুজ্জামান এসেছিলেন কানাডা থেকে। তিনি বলেন, সময়ের দাবি অনুযায়ী আমরা সকল কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এসব বাস্তবায়িত করতে বরাবরের মতো গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা দরকার। দেওয়ান মনিরুজ্জামান বলেন, আমদের লক্ষ্য হচ্ছে ৪০তম ফোবানাকে সফল করা। সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে রাজনীতি নয়, ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা। আমরা ইতিহাসকে আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে বলিষ্ঠভাবে রোপণ করতে চাই। আমাদের ইতিহাস রয়েছে আমরা সবাইকে সেটা জানাতে চাই। আমাদের ইতিহাসে বারবার ছোবল মারা হয়েছে, তাই আমরা সঠিক ইতিহাস জানাতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরো কথা বলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী-সংগঠক লুৎফুন্নাহার লতা, কবি ও কলামিস্ট ফকির ইলিয়াস প্রমুখ। লতা উল্লেখ করেন, আমরা যারা প্রবাসে রয়েছি, বাংলার মাটি যে সন্তানকে জন্ম দিয়েছে, সে সন্তান পৃথিবীর যে প্রান্তে গিয়ে দাঁড়াবে একজন এস্বাসেডর হিসেবে। বাংলার এম্বাসেডর। বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, রয়েছে সভ্যতা, রয়েছে সংস্কৃতি। প্রতিটি এম্বাসেডর সেই শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সভ্যতাকে, সেই ইতিহাসকে, সেই যুদ্ধকে হৃদয়ে লালন করে প্রতিনিয়ত সংগ্রামে জয়ী হওয়া মানুষগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বিশ্বের বুকে এই বাংলাদেশের পতাকাকে সমুজ্জ্বল রাখা।

ফোবানার সেমিনার কমিটির চেয়ারপারসন কবি ও লেখক ফকির ইলিয়াস ১৯৮৭ সালে ফোবানার প্রথম সম্মেলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যে চেতনায় শুরু হয়েছিল, সেটি অনেকে ধারণ করতে পারিনি বলেই আজ ফোবানা খন্ড-বিখন্ড। আমরা একাত্তরের চেতনা, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সাম্যবাদের বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। তখনকার নেতারা সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলেন মহান একাত্তরের পক্ষে। ফকির ইলিয়াস উল্লেখ করেন, এবারের ৪০তম ফোবানা অনুষ্ঠিত হবে বাঙালিকে আবারো একাত্তরের চেতনায় শাণিত করার আহবানে, প্রবাস প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত করার অভিপ্রায়ে। লিখিত বক্তব্যে মনজুর কাদের বলেন, এবারের কনভেশন আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের শিকড়ের সংযোগ স্থাপন, বাংলাদেশের মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের মধ্য পারস্পরিক সহযোগিত বৃদ্ধি করা।

ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটি এবং হোস্ট কমিটির কো-কনভেনর, কো-অর্ডিনেটর, এডভাইজর, সাব-কমিটির কনভেনর, কো-কনভেনরসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুব্রত তালুকদার. ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হামিদ, আপ্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান আলী খবির চান, উপদেষ্টা হাকিকুল ইসলাম খোকন, হোস্ট কমিটির কো কনভেনর পিনাকী তালুকদার, শিবলু ছাদেক শিবলী, মিডিয়া কমিটির আসলাম খান প্রমুখ।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১