অজিৎ ভৌমিক
২৭ মার্চ ২০২৬
২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার দাবিতে নিউইয়র্কে ‘জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন’র র্যালি। ছবি-জাগো প্রহরী।
মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি এবং সেই হত্যাযজ্ঞে জড়িত পাকিস্তানি বাহিনীসহ জামায়াতে ইসলামীকে বিচারে সোপর্দ করার দাবি সম্বলিত বিলের পক্ষে নিজ নিজ কংগ্রেসম্যানের সাথে লবিং জোরদারের সংকল্পে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় ‘জেনোসাইড একাত্তর ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে এক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
একাত্তরের ২৫ মার্চ কালো রাত স্মরণে অনুষ্ঠিত এ র্যালি থেকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে দন্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব আনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা, এবং যেসব সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে জাতীয় সঙ্গীত অসম্মান করেছেন তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত’ (আইসিটি)-এ বিচার বন্ধ রেখে কেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে আইসিটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে তার প্রতিবাদ জানানো হয়। এছাড়া একাত্তরে বাঙালি গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশপ্রেমিক একটি প্রতিটি বাঙালির প্রতি উদাত্ত আহবান জানানো হয়।

হাঁড় কাঁপানো শীত উপেক্ষ করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধারাও র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন। হোস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ড. প্রদীপ করের সূচনা বক্তব্যের পর একাত্তরের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া র্যালিতে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘লাল-সবুজের পতাকায় মুজিব তোমায় দেখা যায়’ ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত পরিস্থিতির মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড প্রদীপ রঞ্জন কর, গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, ফারুক হুসাইন, শওকত আকবর রিচি, হেলাল মজিদ, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, কামরুল হাসান চৌধুরী, হাকিকুল ইসলাম খোকন, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, আব্দুর রহিম বাদশাহ, আব্দুল হাসিব মামুন, কায়কোবাদ খান, জালাল উদ্দিন জলিল, শহীদুল ইসলাম, রুমানা আখতার, দেলোয়ার মোল্লা, দুলাল বিল্লাহ, রফিকুর রহমান, নুরুজ্জামান সরদার, আখতার হোসেন, রিনা আবেদীন, ফিদা জে হাসান রাহাত, আবু বক্কর সিদ্দিক তুষার, খন্দকার জাহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মিজানুল হাসান, ওবায়দুল্লাহ মামুন, শাহীন আজমল, এজিএম সাজ্জাদুল হাসান সবুজ, আসিফ আহমেদ প্রমুখ । বক্তারা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর পুনরায় বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটেছে। ওরা আবার খামচে ধরেছে লাল-সবুজের পতাকা। এ অবস্থার অবসানে দেশ ও প্রবাসের সকল সচেতন বাঙালির ঐক্যের বিকল্প নেই।