নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ এপ্রিল ২০২৬
ঘাতক দুই পলিশ অফিসারের বিচার দাবিতে ড্রামের বিক্ষোভ। ছবি-জাগো প্রহরী।
নিউইয়র্কে জরুরি প্রয়োজনে ৯১১ এ ফোন করলেই পৃুলিশের সাথে অ্যাম্বুলেন্স আসে। কেউ যদি মানসিক রোগীর সাহায্যেও আবেদন জানান তবুও দাঙ্গা পুলিশের আগমন ঘটছে। যদিও ওই পুলিশের কোনো ট্রেনিং নেই উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার। এমন অবস্থার ভিকটিম হয়ে ভাই ও মায়ের সামনে উপর্যুপরি গুলিতে মারা গেছে বাংলাদেশি তরুণ উইন রোজারিও (১৯)। জাবেজ চক্রবর্তী নামে আরেক বাংলাদেশি তরুণ একই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়ে প্রাণে বাঁচলেও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

২৭ মার্চ ছিল বাংলাদেশি উইনরোজারিও’র দ্বিতীয় হত্যাবার্ষিকী। সে উপলক্ষে তার ভাই, মা এবং জাবেজের বাবাসহ স্বজনেরা ১ এপ্রিল জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় বিক্ষোভ করেছেন। ড্রামের এ র্কসূচিতে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানি উইলিয়ামস এই দাবি উচ্চারণ করেছেন যে, ৯১১ এ সাড়া দেয়া পুলিশ অফিসারদের মানসিক রোগী হ্যান্ডেল করার প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি। তাহলে উইন রোজারিও কিংবা জাবেজের ভাগ্য আর কাউকে বরণ করতে হবে না। এ সময় সমস্বরে স্লোগান উঠে ন্যায়-বিচারের এবং উইনের ঘাতক দুই পুলিশঅফিসার সালভাতোরে আলংগি ও ম্যাথিউ সিয়ানফ্রোক্কোকে অবিলম্বে বরখাস্ত এবং শাস্তির দাবি জানান। এ ব্যাপারে সকলেই সিটি মেয়র এবং পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উইনের মা নোটান ইভা কস্তা বলেন, দুই বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো পুলিশ শাস্তি পায়নি। আমরা প্রতিদিন অসহনীয় কষ্টে আছি। মানসিক সংকটে পুলিশ নয়, চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। নোটান ইভা কস্তা আরও বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার কারণে অনেকেই ৯১১-এ ফোন করতে ভয় পাচ্ছেন। সমাবেশে জাবেজ চক্রবর্তীর ঘটনাও তুলে ধরা হয়, যিনি চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে ফোন করার পর পুলিশের গুলিতে আহত হন। তার বাবা হেক্টর চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার ছেলের চিকিৎসা দরকার ছিল, গুলি নয়। মানসিক সমস্যায় থাকা মানুষদের সম্মান ও যত্ন পাওয়া উচিত।’
উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকে কমিউনিটির সাথে ড্রামের কর্মসূচির সমন্বয় করছেন সিমরান সিং। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ কুইন্সের ওজোনপার্কে নিজ বাড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন উইন রোজারিও। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ বাসায় প্রবেশের দুই মিনিটের মধ্যেই তাকে টেজার করে এবং অন্তত পাঁচবার গুলি করে, যখন তার মা অনুরোধ করছিলেন গুলি না চালাতে।
ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা এখনো নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন এবং গত বছর তারা সম্মিলিতভাবে আড়াই লাখ ডলারের বেশি বেতন পেয়েছেন।
সমাবেশে রোজারিও পরিবারের সদস্যরা গত দুই বছরের বিচার সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেসামরিক অভিযোগ পর্যালোচনা বোর্ড সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত বলে জায়। তবে এখনো শাস্তিমূলক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। গত ডিসেম্বরে অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস ফৌজদারি মামলা না করার সিদ্ধান্ত দেন, যা পরিবার ও অধিকার কর্মীদের সমালোচনার কারণ হয়েছে।
রোজারিও পরিবারের দাবি এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার ত্রুটির প্রতিফলন। তারা দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং পুলিশ সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিক্ষোভ সমাবেশের শুরুতে রেভারেন্ড জেমস রয়ের বিশেষ প্রার্থনাতেও পুলিশী আচরণের নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়।