নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Awami
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা রয়েছে। তার এই আগমনের প্রতিবাদে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে “যেখানে তারেক—সেখানেই প্রতিরোধ” কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এই কর্মসূচির বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ জানান “১২ ফেব্রুয়ারির পাতানো নির্বাচনের তথা সান্ধ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের” নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ থেকে শুরু করে তার নিউইয়র্ক ত্যাগ করা পর্যন্ত নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে “যেখানে তারেক—সেখানেই প্রতিরোধ” কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
তারা বলেন এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমানের আগমনের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টের সামনে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ হেডকোয়ার্টারের সামনে বিক্ষোভ ও বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এই কর্মসূচি সফল করার জন্য সাংবাদিক সমাজ থেকে শুরু করে সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান চৌধুরী ইমদাদ।
নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান এবং মানবাধিকার সংগঠক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের ওপর বক্তব্য রাখেন।
মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্র লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে ইমদাদ চৌধুরী বলেন, মার্কিন সরকার ব্যাপক দুর্নীতির জন্য তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তদানীন্তন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক গোপন তারবার্তা পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্বে সাড়া-জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস ওই তারবার্তাটি প্রকাশ করে।
ইমদাদ চৌধুরী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তারেক রহমান যাকে বাংলাদেশের মানুষ সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে চেনে এবং সেই সময়ে যার আরেক নাম ছিলো “মি. টেন পারসেন্ট” আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সফর করতে পারেননি। এই সেই তারেক রহমান যিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে হাওয়া ভবন-খোয়াব ভবন খুলে বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিলেন।
তিনি বলেন, একুশে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল এবং দীর্ঘ ১৭ বছর সে লন্ডনে পালিয়েছিল। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৭টি মামলা হয়েছে।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, অর্থ-পাচারসহ ২০ টি মামলা বিচারাধীন ছিলো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খুনী ও সুদখোর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহযোগিতায় আদালতের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ সকল মামলা থেকে তার বেকসুর খালাসের ব্যবস্থা করেন তিনি। পরে ইউনুসের সাথে লন্ডনে এক বৈঠকে অনুষ্ঠিত এক গোপন সমঝোতার অংশ হিসেবে ১৭ বছরের পলাতক জীবন কাটিয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন।
নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “যেই মার্কিন সরকার তারেক রহমানের মতো একজন চরম দুর্নীতিবাজ লোককে তাদের দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তাঁকে আবার তাঁদের দেশে আসার সুযোগ করে দিয়েছে দেখে আমরা খুবই আশ্চর্য ও মর্মাহত হয়েছি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই এবং একই সাথে মার্কিন সরকারের নিকট এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাই।”
ইমদাদ চৌধুরী বলেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত তথা মেটিকুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জনগণের ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। আর এই ষড়যন্ত্রের পেছনে অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিলো তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি।
তিনি বলেন, “তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই বিএনপি-জামাত অশুভ চক্র কথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নামে বহু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, পুলিশ সদস্যসহ অসংখ্য মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে ও পুড়িয়ে মারে এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করে ও জ্বালিয়ে দেয়।”
নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পরবর্তীতে ৫ আগস্টের পর তাদের এই বর্বরতা ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভেঙে ফেলে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রতিশোধের নামে তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় এবং আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের সকল স্মৃতি চিহ্ন মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, তারা শত শত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের হামলা-মামলার কারণে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী আজ বিনাবিচারে কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদের অনেকেই বিনা চিকিৎসায় জেলেই মারা গেছেন। তাদের প্রতিহিংসার কারণে লক্ষ লক্ষ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আজ দেশ ছাড়া, ঘর ছাড়া।
ইমদাদ চৌধুরী বলেন, “ষড়যন্ত্রকারী ও হায়েনাদের দখলে থাকা বিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবন আজ অভিশপ্ত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন । বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে অবরুদ্ধ। তাঁদের কারণে দেশ আজ খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, বলাৎকার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মানুষের জীবনে এখন নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সারের হাহাকার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে দেশের মানুষ চরম দুঃসহ জীবন কাটাচ্ছে।”
তিনি বলেন, সুশাসনের অভাবে মাত্র ৬ মাসে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খেলাপি ঋণের দিক থেকে বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষে বা ১ নম্বরে অবস্থান করছে ঠিক যেমন ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশ টানা ৫ বার দুর্নীতিতে “বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন” হয়েছিল।
ইমদাদ চৌধুরী বলেন, “আমরা মনে করি দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা ও এই ভয়াবহ সংকটের জন্য এই অবৈধ বিএনপি সরকার ও এর অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পূর্ণভাবে দায়ী এবং সেই জন্য জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ এবং ভাষণ দেয়ার কোন অধিকার তার নেই।”