মো. আবুল কাশেম
১২ মে ২০২৬
ফিতা কেটে ‘নর্থ আমেরিকা ইএইচভিএসি’র উদ্বোধন। ছবি-জাগো প্রহরী।
নিউইয়র্ক সিটি এবং ওয়েস্টচেষ্টার কাউন্টির ইয়ংকার্সে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আমেরিকানসহ ভিনদেশীদের বাড়িতে হিটিং ও এয়ারকন্ডিশন মেশিন ইনস্টলের সফলতার সিড়ি বেয়ে তোফায়েল চৌধুরী লিটন একই এলাকায় সুপরিসর জায়গায় নির্মিত বিশাল একটি হোলসেল স্টোর চালু করলেন অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে। আর এর মধ্য দিয়ে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশিদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজের আরেকটি সফলতা দৃশ্যমান হলো। কারণ তোফায়েল চৌধুরী লিটনের কাস্টমারের ৯০ শতাংশই শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং চায়নিজ অথবা স্প্যানিশ।

১৯০০ সেন্ট্রাল পার্ক এভিনিউতে লিটনের মালিকানাধীন ‘গ্রী মেকানিক্যাল ইয়ংকার্স’র সন্নিকটে ১৮৭৬ সেন্ট্রাল পার্ক এভিনিউতে গত ৮ মে শুক্রবার উদ্বোধন করা এই ‘নর্থ আমেরিকা ইএইচভিএসি’ থেকে কন্ট্রাক্টররা সুলভে সকল সামগ্রি কিনতে পারবেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট তোফায়েল চৌধুরী লিটন এ সংবাদদাতাকে জানান, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ স্টেটের ব্যবসায়ীরাই পাবেন এ সুযোগ। অনলাইনে অর্ডার নেয়া হচ্ছে এবং বিশ্বস্থতার সাথে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও করেছি। ব্যবসায়ীদের জন্যে অবারিত হোলসেল প্রাইসের সুযোগ সামনের এক বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য। উল্লেখ্য, মৃদুভাষী এবং নীরব সমাজকর্মীতে পরিণত তোফায়েল চৌধুরী লিটন গত ৬ বছর ধরে ইয়ংকার্সে ব্যবসা করছেন।
নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নরের প্রদত্ত অনুদানে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হাউজে হিটিং ও কোলিং মেশিন লাগিয়ে দিচ্ছেন। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্যে এই প্রোগ্রাম প্রযোজ্য হলেও সিটিতে যে কেউ পাচ্ছেন এই সুবিধা। সিটিতে একটি বাড়িতে মেশিন লাগানোর পর ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত স্টেট পরিশোধ করছে। বাড়তি অর্থ দিতে হয় বাড়ির মালিককে। অপরদিকে, সিটির বাইরে এ বরাদ্দ হচ্ছে সাড়ে ৭ হাজার ডলার। বেশ কয়েক হাজার বাড়িতে হিটিং ও কোলিং মেশিন স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই সেক্টরে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরী হয়েছে। ‘প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ার সুবাদে অন্য স্টেটের লোকজনও হরদম ফোন করছেন। আমার প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস চাচ্ছেন। সে তাগিদেই হিটিং ও কোলিং মেশিনের সবকিছুর হোলসেল স্টোর দিলাম। এখোন সকলের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবো’, বলেন লিটন।
লিটন উল্লেখ করেন, ইয়ংকার্সে বড়বড় ভবনে ইনস্টল করছি। যার মালিক বা ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ভিনদেশীরা। সকলেই আসছেন আমার প্রতষ্ঠানে। উল্লেখ্য, ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে সাধারণত বিত্তশালীরা বাস করেন। উল্লেখযোগ্য ভারতীয় রয়েছেন তার মধ্যে।
লিটন জানালেন, নিউইয়র্ক স্টেটের অনুদান প্রদানের কর্মসূচি হয় তো অব্যাহত থাকবে না। স্প্লীট (একই মেশিন হিটিং ও কোলিংয়ের কাজ করে) মেশিন স্থাপনে নিউইয়র্ক স্টেটের অনুদান ও ভর্তুকি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে, প্রতিদিনই ফোন পাচ্ছি নতুন নতুন এলাকা থেকে। তাই প্রোগ্রামটি বন্ধ হওয়ার পর যাতে সকলে এই মেশিন লাগাতে পারেন কিংবা অন্য এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণেও সক্ষম হই-সেজন্যে নির্ভরযোগ্য মেশিন আমদানি করেছি। বিগতদিনের সুনাম ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ইলেক্ট্রিক্যাল এবং এইচভিএসসি কন্ট্রাক্টরদের যতকিছু প্রয়োজন সবকিছু রয়েছে আমার নতুন এ স্টোরে। তা বিক্রি হবে পাইকারি মূল্যে।
রাস্তা সংলগ্ন জমি ক্রয়/লীজ নেয়া থেকে ওয়্যারহাউজ/শো-রুম নির্মাণ করা হয়েছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। এজন্যে তারা সিটি অথবা স্টেটের সহায়তা নেননি। মাইনোরিটি বিজনেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও কোনো সুবিধা এখন পর্যন্ত নেননি বলে জানালেন তোফায়েল চৌধুরী লিটন। এমনকি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ব্যাংক থেকে কোনো ঋণও নেননি।
নিউইয়র্ক স্টেটের ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টিতে অনেক আগে থেকেই বাড়ি কেনার পর তা সংস্কার করে বিক্রির ব্যবসায় লিপ্ত লিটন জানালেন যে, এক্ষেত্রে তার কাস্টমারের তালিকায় কোনো প্রবাসী নেই। অর্থাৎ ভিনদেশীদের মধ্যে তার শেকড় প্রোথিত হওয়ায় এখন আর পেছনে তাকানোর অবকাশ নেই।
এই হোলসেল স্টোর পুরোপুরি চালুর জন্যে আরো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মালপত্র আমদানির দৃশ্য দেখে গ্রাহকেরা অনবরত ফোন করছেন স্টোরে আসছেন ক্রেতা হিসেবে। সেজন্যে উদ্বোধন করতে হলো দ্রুত। উদ্বোধনের সময় লিটনের ছোট দুই ভাই তানভির সীমন চৌধুরী এবং ফরহাদ চৌধুরীও ছিলেন। তানভির ও ফরহাদ হচ্ছেন এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অর্থাৎ তিন ভাই মিলে বহুজাতিক সমাজে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণে নয়া দিগন্তের সূচনা ঘটালেন, যা ইতিমধ্যেই সমগ্র কমিউনিটিতে আলোড়ন তুলেছে।