আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Donald Trump
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি চাকরির নিয়ম বা সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত নতুন নিয়মের ফলে প্রায় ৫০ হাজার সরকারি কর্মীকে নিয়োগ বা বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে আরও বেশি ক্ষমতা পাবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট (ওপিএম) পরিবর্তিত নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হতে যাচ্ছে, যেখানে তিনি সরকারি নীতির ওপর ‘প্রভাব বিস্তারকারী’ কর্মকর্তাদের চাকরির সুরক্ষা কেড়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এই সংস্কার পরিকল্পনাকে ‘শিডিউল এফ’ নামে অভিহিত করেছিলেন। যে কর্মচারিরা প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার ক্ষুন্ন করছে বলে প্রশাসন মনে করবে তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
প্রশাসনের শীর্ষ এইচআর কর্মকর্তা ও ওপিএম পরিচালক স্কট কুপোর বলেন, “যদি কর্মীরা প্রশাসনের বৈধ লক্ষ্য এবং আদেশ পালনে অস্বীকৃতি জানায়, তবে কোনও প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়।”
তবে নতুন নিয়ম চালু হওয়ার আগেই আইনি বাধার মুখে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ইউনিয়নগুলো গত জানুয়ারিতে নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। আদালত তখন নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মামলা স্থগিত রেখেছিল।
মামলাকারী গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম‘ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড’ নামক সংস্থার কর্মকর্তা স্কাই পেরিমান বলেছেন, “কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতে মামলার কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, আমরা এই বেআইনি নিয়মবিধি বন্ধ করতে আদালতে যাব এবং প্রশাসনকে জবাবদিহি করার জন্য প্রতিটি আিইনি হাতিয়ারকে কাজে লাগাব।”
নতুন নীতিমালায় ‘হুইসেলব্লোয়ার’ বা প্রতিষ্ঠানের ভেতরের অনিয়ম ফাঁস করা কর্মীদের সুরক্ষা আইনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগে এসব কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল ‘অফিস অব দ্য স্পেশাল কাউন্সিল’ নামক একটি স্বাধীন সংস্থার ওপর।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি সংস্থাগুলোই তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ অপচয় বা ভুলকিছু করার অভিযোগ তোলা নিজ কর্মীদের চাকরির সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্বে থাকবে।