নিউজ ডেস্ক
০২ অক্টোবর ২০২৬
USS Abraham Lincoln
চলতি বছর নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং উপকূল আক্রমণকারী দুটি উভচর সেনাদল (ল্যান্ডিং গ্রুপ) মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তুতি চলছে। এই খবর এলো এমন সময় যখন ইরান জানিয়েছে যে, ভেস্তে যাওয়া যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবনে নিজেদের সর্বশেষ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া পেয়েছে তারা। গত সপ্তাহে ইরান একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করে, যাতে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলো থেকে তাদের নৌ-অবরোধ সরিয়ে নেবে আর ইরান সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করবে।
পরে অবশ্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছিলেন, তারা প্রত্যাখ্যানের আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাননি। এর মাঝে বুধবার এক্স-এ ইরান সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র সাড়া দিয়েছে বলে সরকারকে জানিয়েছেন আরাকচি।
এরই মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে গেছে বলে আল-জাজিরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, সান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে সোমবার ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ও পশ্চিম এশিয়া অভিমুখে রওনা হয়েছে। এই ল্যান্ডিং ফোর্স গ্রুপে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।
চলতি বছর নভেম্বরের শেষের মধ্যেই ইরানের চারপাশে এসব রণতরী ও ল্যান্ডিং সেনা গ্রুপ পূর্ণাঙ্গভাবে মোতায়েন করা সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানকে মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সামনে অনেক বিকল্প পথ খোলা থাকবে।
পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি ক্রিপ্টো-ভিত্তিক গোপন ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ইরান ব্যবহার করত।
এর উদ্দেশ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করা এবং তেহরানের নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করা।