নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহীকে গুলি করে হত্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার

NY Times Executive Jonathan-McKinsey

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউইয়র্ক টাইমসের প্রযুক্তি বিভাগের এক নির্বাহীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই নির্বাহী কর্মকর্তার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত ৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাককিনসে পত্রিকাটির গেমস প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স বিভাগের প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিজের ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা থাকা স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের পার্কিং লটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর জোনাথনের ৭৬ বছর বয়সী শ্বশুর শোইয়ং ঝাং এবং শাশুড়ি শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল কারণ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আদালতের নথির বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, নিহত জোনাথন ও তার স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাং আলাদা বসবাস করছিলেন। গত বছর আলামেডা কাউন্টির আদালতে উভয়ই পরস্পরের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এনে সুরক্ষামূলক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেছিলেন।

জোনাথনের করা সুরক্ষার আবেদনে বলা হয়, ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। এমনকি পোশাক পছন্দকে কেন্দ্র করে শাশুড়ি তাকে এবং তার এক ছেলেকে ‌‌‘জঘন্য সমকামী’, ‘বিকৃত মানসিকতার’ ও ‘দানব’ বলে গালিগালাজ করতেন।

আবেদনে তিনি বলেন, ২০১০ সালে স্তন অপসারণ অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে শ্বশুর শোইয়ং ঝাং তার বুকে সজোরে ঘুষি মেরেছিলেন। স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের সঙ্গেও জোনাথনের সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে।

সুরক্ষার আবেদনপত্রের বরাত দিয়ে দ্য মার্কারি নিউজ বলেছে, ২০১০ সালে জোনাথন যখন নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তার স্ত্রী শরীর থেকে চিকিৎসাকাজে ব্যবহৃত টিউব জোরপূর্বক টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনার পর ২০১১ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

জোনাথন বলেছিলেন, ২০১৩ সালেও একবার ঝগড়ার সময় স্ত্রী তাকে কড়াই দিয়ে পিটিয়েছিলেন। এ ছাড়া স্ত্রী তাদের সন্তানদের সঙ্গেও মৌখিক নির্যাতন চালাতেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে স্ত্রী ক্যান্ডিস পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বাকবিতণ্ডার সময় জোনাথন তার হাত চেপে ধরে টেবিলের কোনায় আছড়ে ফেলেছিলেন, যার ফলে তার মেরুদণ্ডের ওপরের অংশের একটি হাড় ভেঙে যায়। জোনাথন তার শাশুড়ির ওপরও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে দাবি করেন ক্যান্ডিস।

আদালতের নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ক্যান্ডিস ডাবলিন পুলিশকে ফোন করে অভিযোগ করেন, জোনাথন তাদের ছয় বছরের ছেলের মুখে থাপ্পড় মেরেছেন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের দুটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালেও জোনাথন তার হাত জখম করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন ক্যান্ডিস।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, জোনাথন পরবর্তীতে আদালতে এসব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং পেরেন্টিং ক্লাসে অংশ নেওয়ার শর্তে আদালত থেকে জামিন পান। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত