নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ মার্চ ২০২৬
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিউইয়র্কে ইরানিদের আনন্দ-মিছিল।
ইরানে দীর্ঘ ৩৬ বছরের দন্ডমুন্ডের কর্তা হিসেবে ক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক হত্যার পর আমেরিকার বহু সিটিতে আনন্দ-উল্লাস করেছেন ইরানি আমেরিকানরা। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লসএঞ্জেলেসসহ কয়েকটি সিটিতে খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে শনি ও রবিবার অনুষ্ঠিত ছোট ছোট সমাবেশ-মিছিল থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রাসী তৎপরতার নিন্দা এবং যুদ্ধ থেকে বিরত হওয়ার স্লোগান উচ্চারিত হয়েছে। এসব মিছিলে যারা ছিলেন তাদের অধিকাংশই ইরানের নাগরিক নন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, খামেনিকে হত্যার সমর্থকদের প্রায় ৯৫% ছিলেন ইরানি আমেরিকান। তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ লেখা প্ল্যাকার্ড বহনের পাশাপাশি স্লোগান দেন, ‘ইরানকে আবার মহান করুন’, ‘ইউএসএ ইউএসএ ইউএসএ’ ইত্যাদি। তারা ৩৬ বছর আগের পতাকাও বহন করেছেন মিছিল-সমাবেশে। অর্থাৎ তারা খামেনির নির্দয় আচরণের ভিকটিম হিসেবে ইরান ত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, খামেনির মত স্বৈরশাসকের আচরণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি সহিংস নিপীড়নের যুগে প্রবেশ করেছিল-যা থেকে এখন সকলে মুক্তি পেলাম। শুরু হলো নব অধ্যায় ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।

আনন্দ-সমাবেশে কানেকটিকাটে এসেছিলেন কানেকটিকাট থেকে ৪৫ বছর বয়েসী রামিন সোহরাব। তিনি বলেন, আমাদের স্বজনেরা যারা এখনো ইরানে রয়েছেন তারা খামেনিকে উৎখাতের ঘটনাটিকে যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন না। তারা একে মানবতা-উদ্ধার হিসেবে মনে করছেন বলেই আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। একইসাথে ইরানে অভিযান চালানো সামরিক বাহিনীর সকলকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। রেজা ইবরাহিমী নামক ৩৭ বছর বয়স্ক আরেক ইরানি আমেরিকান উল্লেখ করেন, সকালে ইরানে আমার মা’র সাথে কথা বলেছি। তিনিও স্বস্তির শ্বাস নিচ্ছেন। কারণ সাড়ে তিন যুগেরও অধিক সময়ে কেউই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেননি। বলতে দ্বিধা নেই যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইরানীদেরকে নয়া স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিলেন।

ইরানে মার্কিন বাহিনী হামলা শুরুর দিন অর্থাৎ শনিবার নিউইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজের আশেপাশে বিক্ষোভ হয়েছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তারা দাবি জানিয়েছেন, আলোচনার মধ্য দিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির অবসানেরর জন্য। নতুন কোনো যুদ্ধ আমেরিকানরা দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন কোনো কোনো বক্তা।