আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ মার্চ ২০২৬
US Soldiers killed in Kuwait
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এই প্রথম মার্কিন সেনার প্রাণহানির খবর জানাল যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানায়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে কুয়েতে তাদের তিন সেনা নিহত এবং ৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। নিহত সেনাদের নাম জানায়নি সেন্টকম। নিহত সেনাদের পরিবারকে তাদের মৃত্যুর খবর দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে তারা। এদিকে এ সংঘাতে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কুয়েতে ৩ মার্কিন সেনা নিহতের পর প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের পূর্বাভাসের বরাতে এ শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প।
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকান বীরদের প্রাণহানি হতে পারে। আমাদের পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। যুদ্ধে প্রায়ই এমন হয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তিন সেনার মৃত্যুর খবর জানালেও বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে আঘাত হানেনি।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী এর আগে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল ইরানের গণমাধ্যমে। তবে সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমনকি রণতরীর ধারেকাছেও পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
বরং উল্টো ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে রবিবার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।
এদিকে ইরান মার্কিন অথবা ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ফেলে দেওয়ার দাবি করেছে। অনলাইনে তাদের শেয়ার করা এক ভিডিওতে একটি যুদ্ধবিমানকে ঘুরে ঘুরে নিচে পড়ে যেতে দেখা গেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা সোমবার তৃতীয় দিনে গড়ানোর পর এ দাবি জানিয়েছে তেহরান।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিওটি থেকে এটি পরিষ্কার হওয়া যায়নি যে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের না, ইসরায়েলের। ইসরায়েলও দুই ইঞ্জিনের সব আবহাওয়ার উপযোগী যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত এই যুদ্ধবিমানগুলো ব্যবহার করে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটির পেছন দিকে আগুন জ্বলছে আর এটি নিয়ন্ত্রণ হারা অবস্থায় ধীরে ধীরে ঘুরে ঘুরে নিচে পড়ে যাচ্ছে।
বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানটি পাইলট নিরাপদে বের হয়ে যেতে পেরেছেন।
বিমানটি কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়েছে আর নিচে পড়ার পর সেটি থেকে ধোঁয়া উঠছিল বলে জানিয়েছে তারা। কী কারণে এ যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা পরিষ্কার হয়নি।
২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ইরানের সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি আছে সবগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের হামলায় প্রথমদিনই নিজ কম্পাউন্ডে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।