মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে এক ভয়াবহ আঘাত, অভিমত সংশ্লিষ্টদের

ওয়াশিংটন পোস্টের ৩ শতাধিক কর্মী ছাঁটাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ওয়াশিংটন পোস্টের ৩ শতাধিক কর্মী ছাঁটাই

Washington Post

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তাদের এক-তৃতীয়াংশ সংবাদ কর্মী ছাঁটাই করেছে। ৩০০ জনেরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। সেই তালিকায় আছেন ভারতের লোকসভার সদস্য কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের ছেলে ঈশান থারুরও। একে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের ইতিহাসে এক ‘ভয়াবহ আঘাত’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে ওয়াশিংটন পোস্টকে ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কর্মী ছাঁটাইয়ের এই পদক্ষেপকে ‘কৌশলগত পুনর্গঠন’বলে অভিহিত করেছেন।
কোম্পানির এই পদক্ষেপকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, প্রযুক্তির পরিবর্তন ও পাঠকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। তবে আজকের নেওয়া এই পদক্ষেপ বেদনাদায়ক বলেও তিনি স্বীকার করেন।

গণমাধ্যমটির বিদেশের একাধিক ব্যুরো, স্থানীয় প্রতিবেদক টিম, ক্রীড়া বিভাগ এবং ব্যবসায়িক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশও এই গণছাঁটাই থেকে বাদ যায়নি। ভারতের দিল্লি ও পশ্চিম এশিয়া ব্যুরোর সম্পাদক পদেও রদবদল হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের ইউক্রেন সংবাদদাতা লিজি জনসন, যিনি বিদ্যুৎ বা পানির সংযোগহীন যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে জীবন বাজি রেখে সংবাদ পাঠাচ্ছিলেন, তাকেও ছাঁটাই তালিকায় রাখা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে ক্ষোভ ও যন্ত্রণার কথা জানিয়ে লিজি জনসন লিখেছেন, “একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখানে থাকা অবস্থায় ওয়াশিংটন পোস্ট আমাকে ছাঁটাই করল। আমার কোনো ভাষা নেই, আমি বিধ্বস্ত।”

একইভাবে কায়রো ব্যুরো প্রধান ক্লেয়ার পার্কার জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সব প্রতিনিধি ও সম্পাদককে ছাঁটাই করা হয়েছে। বার্লিন ব্যুরোতেও পড়েছে ছাঁটাইয়ের কোপ।

চাকরি হারানো ভারতের ইশান থারুর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লিখেছেন, “আন্তর্জাতিক ডেস্কের অধিকাংশ কর্মীর সঙ্গে আমাকেও ছাঁটাই করা হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ভিউ’ কলামের মাধ্যমে পাঠকদের বিশ্ব রাজনীতি বোঝাতে সাহায্য করেছিলাম। কিন্তু আজকের দিন সবচেয়ে খারাপ।”

পত্রিকাটির মালিক ও অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের জেফ বেজোস এই কর্মী ছাঁটাইয়ের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের সাবেক সম্পাদক মার্টিন ব্যারন কর্মী ছাঁটাইয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে সংবাদপত্রের নিজস্ব ব্র্যান্ড ইমেজের ক্ষতি বলে দাবি করেছেন। সাবেক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একে ‘দুর্ভাগ্যজনক করপোরেট সংস্কৃতি’ বলে অভিহিত করেছেন।

ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাব ফাউন্ডেশনের সদস্যদের সামনে দেওয়া এক বক্তৃতায় পেলোসি বলেন, “একটি স্বাধীন গণমাধ্যম যদি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ না পায়, তবে তারা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে না। আর যখন নিউজরুমগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন আমাদের প্রজাতন্ত্রও দুর্বল হয়ে পড়ে।”

প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির মতো বড় বড় খবর সামনে এনে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছিল। বিদেশি ব্যুরোগুলো বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত পত্রিকাটির বৈশ্বিক অবস্থানকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১