নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কংগ্রেসম্যান টম সোওজ্জি
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের হিন্দু ও বৌদ্ধদেরকেও দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। এমন তথ্য মার্কিন কংগ্রেসে তুলে ধরেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান (নিউইয়র্ক-৩) টম সোওজ্জি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি কংগ্রেসে প্রদত্ত বক্তব্যে কংগ্রেসম্যান সোওজ্জি বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা উদযাপনের জন্য সারাবিশ্বের ধর্মীয় নেতারা এসেছেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। এ অবস্থায় ভাবতেও কষ্ট হয় যে, বহুস্থানেই নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম পালনে সক্ষম হচ্ছেন না বিরাটসংখ্যক মানুষ। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অকথ্য নির্যাতনের ভিকটিম হচ্ছেন উইঘুর মুসলমানেরা। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হতে হচ্ছে হিন্দু ও বৌদ্ধদের।
সিরিয়ায় খ্রিস্টানদের নিরাপদ দিনাতিপাতের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। ভারত, মিশর, নাইজেরিয়া এবং অন্যত্র খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিগৃহিত হচ্ছেন। জুইশরা বিশ্বব্যাপীই বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন। শিখরা ধর্মীয় টারবান ব্যবহার করতে পারছেন না বিভিন্ন স্থানে। মুসলমানদের ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হওয়াকেও মেনে নেয়া যায় না। আহমদি, রোহিঙ্গারাও স্বস্তিতে নেই। চীনের বৌদ্ধ এবং ইরানের বাহাই সম্প্রদায়ের লোকজনের অবস্থাই বা কেমন?
কংগ্রেসে ইন্ডিয়া, উজবেকিস্তান, এশিয়া-প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলোর পক্ষে কর্মরত ককাসের প্রভাবশালী সদস্য টম সোওজ্জি মানবতাকে জাগ্রত করার উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, মানুষের দুশমনদের ধরাশায়ী করে ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গোটাবিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব অপশক্তি আমাদের মধ্যে বিবাদ-বিভক্তি তৈরীর চেষ্টা করে তাদেরকে পরাজিত করে সকলের ধর্ম-কর্ম উদযাপনের নিরাপদ পরিবেশ তৈরীর পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে উজ্জীবিত রাখার সংকল্প গ্রহণ করতে হবে সবাইকে। টম সোওজ্জি উল্লেখ করেন, আমরা স্বাধীনতার আড়াইশ বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছি সেখানেও একই অঙ্গিকার ব্যক্ত করতে হবে সকলের ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিপূর্ণভাবে উপভোগের।
উল্লেখ্য, ১-৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম সামিট’ অনুষ্ঠিত হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে। ৯০টিরও অধিক দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুসংহত রাখার মাধ্যমে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে সকলে অভিমত পোষণ করেন। একইসাথে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাবলিকে আড়াল না করে তা দূর করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক হিসেবে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিতের পরামর্শ দেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারিরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চমৎকার বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গিকারের পুনর্ব্যক্ত করেন।