নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
US Visa
মার্কিন কংগ্রেসে এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ার কংগ্রেসওম্যান (নিউইয়র্ক-ডেমক্র্যাট) গ্রেস মেং, কংগ্রেসে ফরেন এ্যাফেয়ার্স কমিটির র্যাঙ্কিং মেম্বার গ্রেগরি মিক্সসহ ৭৫ কংগ্রেসম্যান যুক্ত স্বাক্ষরের এক চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমকে আহবান জানিয়েছেন অবিলম্বে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশে ভিসা কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ উঠিয়ে নেয়ার জন্য। ২৯ জানুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএস সিটিজেনদের নিকটাত্মীয়রাও এর ভিকটিম হয়েছেন, যে সংখ্যা এক লাখ ৩৫ হাজারের অধিক।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেয়ায় ভিসাধারী ৪৪% এশিয়ান আমেরিকান পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে সক্ষম হচ্ছে না। গোটাবিশ্বের ৪০% মানুষকে ভিসা স্থগিতাদেশের আওতায় পড়তে হয়েছে, যা বিশাল এই জনগোষ্ঠিকে অবজ্ঞা আর উপেক্ষার সামিল। বিদ্যমান রীতি মেনে যারা পারিবারিক, ব্যবসায়িক, বিনিয়োগ, চাকরি সূত্রে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন তাদেরকে বলা হচ্ছে যে এখানে আসো সঠিক উপায়ে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগেই আসতে আগ্রহীদের সাথে এমন আচরণের ব্যাপারটি মেনে নেয়া যায় না। এটা নিঃসন্দেহে নির্দয় আচরণের সামিল। কারণ তারা যাবতীয় রীতি মেনেই সবকিছু সাবমিট করেছেন ভিসার জন্য। এর ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় আসতে আগ্রহীদেরকে বাধা দেয়া হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এই স্থগিতাদের প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, রাশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, কুয়েত, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক। তখন পররাষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ক এক এক্স পোস্টে বলেছিল, যেসব দেশের অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণভাতা অগ্রহণযোগ্য হারে নিয়ে থাকে, এমন ৭৫টি দেশের অভিবাসী-ভিসার প্রক্রিয়া পররাষ্ট্র দপ্তর স্থগিত রাখবে। নতুন অভিবাসীরা মার্কিন জনগণের সম্পদে ভাগ বসাবে না- যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র এটা নিশ্চিত হতে পারছে ততদিন স্থগিতের এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়, ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়মের অধীনে তারা ভিসার আবেদন বাতিল করতে পারবেন। ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়মে সাধারণত দেখা হয়, কোনো ভিসা আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে নিজের খরচে জীবনযাপন করতে পারবেন কিনা। অর্থাৎ যার যুক্তরাষ্ট্রে এসেই সরকারি অর্থ-সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে তাদেরকে ভিসা দেয়া হবে না। সরকারি সহায়তার অন্যতম উৎস হচ্ছে ফুডস্ট্যাম্প, চিকিৎসা-সেবা, গৃহায়ন-মঞ্জুরি ইত্যাদি। গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে সব মার্কিন দূতাবাসকে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের বিষয়ে খড়গহস্ত হয়েছেন। একের পর এক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে ব্যাপক আকারে ভিসা দেওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী চলমান অভিযানে এমনিতেই কম্যুনিটিতে সন্ত্রস্ত অবস্থা তৈরী হয়েছে, তার ওপর স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান রীত অনুযায়ী আনার বিরুদ্ধেও ঢালাও স্থগিতাদেশের ব্যাপারটি নয়া উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ অনেকে ১৯/২০ বছর ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীকে দেয়া এই চিঠি কম্যুনিটিতে স্বস্তি এনেছে। কারণ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ তথা ভিসা ইস্যু পুনরায় শুরু করা না হলে কংগ্রেসমানরা সংঘবদ্ধভাবে একটি বিল উঠাবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কংগ্রেসম্যানদের মধ্যে আরো আছেন আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো-করটেজ, ইভ্যাটি ক্লার্ক, রিচী টরেস, ইয়াসামিন আনসারী, গ্যাবে এ্যামো, ওয়েসলী বেল, শন্টেল এম ব্রাউন, আন্দ্রে কারসন, গ্রেগ সিজার, শ্যন ক্যাস্টেন, ক্যাথি ক্যাস্টও, শিলা ম্যাককরমিক, গিলবার্ট র্যা সিজনারস, জিম কস্টা, ড্যানি কে ডেভিস, ডেবি ডিঞ্জেল, ডায়ানিা ডিগেটি, রোজা এল ডিলোরো, নানেটে ডিয়াজ ব্যারাগান, আদ্রিয়ানা ইস্প্যালেট, ভেরনিকা ইস্কোভার, জিমি গমেজ, পাবলো হোজে হারনানেন্দজ, রাশিদা তাইয়্যেব, ইলহান ওমর, শ্রী থানেদার, নাদিয়া ভ্যালেস্কুয়েজ প্রমুখ।