নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ICE-Killer
ইমিগ্রেশন পুলিশের বর্বরতা রুখে দেয়ার পাশাপাশি অবিলম্বে ‘আইস’ (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস অ্যানফোর্সমেন্ট) বিলুপ্তির দাবিতে শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি সারা আমেরিকায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ‘ন্যাশনাল শাটডাউন ক্যাম্পেইন’ নামক একটি সোস্যাল মিডিয়া গ্রুপ। মিনিয়াপলিসে রেনি নিকোল গুড এবং আলেক্স প্রেটিট নামে দুই আমেরিকান নাগরিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে সারা আমেরিকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে ২৬ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে ধর্মঘট পালনের পাশাপাশি প্রতিদিনই বিক্ষোভ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। তবুও থামেনি আইসের নির্দয় আচরণ।
আইস বিলুপ্তির দাবিতে গত চারদিনে নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, লসএঞ্জেলেস, বস্টনসহ অর্ধশতাধিক সিটিতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্বেও বড় বড় সমাবেশ হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গোটা আমেরিকায় ধর্মঘটের ডাক দেয়া হলো।
উল্লেখ্য, এর আগে পুলিশের নিষ্ঠুর আচরণের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় মিনিয়াপলিসেই জর্জ ফ্লয়েড নামক এক কৃষ্ণাঙ্গ। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সারা আমেরিকায় দীর্ঘতম বিক্ষোভ চলেছে। ২০২০ সালের ওই ক্ষোভের সময় ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়নি। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের শত বছরের ইতিহাসে এই প্রথম জাতীয়ভিত্তিক ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। এ ব্যাপারে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র (প্রতিমন্ত্রী) ট্রিসিয়া ম্যাকললেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আইসের বিরুদ্ধে যা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। আইসের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা ও অপপ্রচারের ঘটনা ১৩০০ গুণ বেড়েছে।
ধর্মঘটের আহবানে বলা হয়েছে, শুক্রবার স্কুল খুলবে না। দোকান-পাট বন্ধ থাকবে। কেউ কাজেও যাবে না। ধর্মঘট চলাকালে একটিই স্লোগান হবে ‘আইসের বিলুপ্তি চাই, নো মোর আইস’। উল্লেখ্য, আইসের গুলিতে নিহত প্রেটিট (৩৭) ছিলেন হাসপাতালের নার্স এবং ফেডারেল শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য। এ কারণে শ্রমিক ফেডারেশনও ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।