ইরানে একদিনে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, পাইলট নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে একদিনে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, পাইলট নিখোঁজ

US F-15 Plane shot down

ইরানের সেনারা জানিয়েছে, তারা তাদের দেশের দক্ষিণপশ্চিম অংশের ওপর এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দুটি যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করেছে। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সামরিক বাহিনীর খাতামুল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর গত ৩ এপ্রিল জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।

পরে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ উড়োজাহাজকেও নিশানা করার কথা জানায়, যেটি উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিধ্বস্ত এ-১০ বিমানের পাইলট নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছেন বলে অনামা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

কিন্তু ভূপাতিত এফ-১৫ বিমানের এক পাইলটের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা অজানা। একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম বলেছে, যুদ্ধবিমানটির এক ক্রুকে মার্কিন বাহিনী শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলেও অন্যজন এখনও নিখোঁজ।

এদিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেছেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলেও তা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। “না, একেবারেই না। এটা যুদ্ধ, আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি,” বলেছেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ এবং প্যারাস্যুট সংযুক্ত একটি ইজেকশন সিটের মতো কিছু একটার ছবি দেখানো হয়েছে।

যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ‘বারবার ইরানে যুদ্ধ জয়ের কৃতিত্ব দাবি করা’ ট্রাম্পকে টিটকারি মেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন।

“ইরানকে টানা ৩৭ বার হারানোর পর, তাদের শুরু করা কৌশলবিহীন এই অনন্য যুদ্ধ এখন ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ থেকে নেমে ‘কেউ কী আমাদের পাইলটকে পেয়েছেন? প্লিজ?’ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে,” লেখেন তিনি।

বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পেন্টাগন এবং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে সামরিক কর্মকাণ্ড দেখভালের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ইরানিরা কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি জানালে, সেন্টকম প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেসব দাবি উড়িয়ে দিয়ে বিবৃতি দিত, বলছে আল জাজিরা।

এফ-১৫ ভূপাতিত করার পর ইরানি কর্মকর্তারা বিমানটির বেঁচে থাকা ক্রু’কে খুঁজে বের করতে বেসামরিক নাগরিকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে। কোহগিলুয়ে ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের গভর্নর বলেছেন, যারাই ওই ক্রু’কে ধরতে পারবে, তাদেরকে ‘বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে’।

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজনীতিকও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং মার্কিন বাহিনীর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

“বিপজ্জনক এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমানের সব ক্রু এবং তাদের উদ্ধারে যারা কাজ করছেন তাদের সবার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রার্থনা করছি,” এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন সেনেটের সংখ্যালঘু অংশের নেতা ডেমোক্র্যাট চাক শুমার।

যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। এগুলো ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারে’ ভূপাতিত হয়েছে বলে পরে দাবি করেছে তারা। গত মাসে ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট ভূপাতিত হয়ে সেখানে থাকা ছয় ক্রু’র সবাই নিহতও হয়।

এর বাইরেও ইরান তাদের আকাশে ওড়া ডজনের বেশি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে। শুক্রবার মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবরের পর সেটির অনুসন্ধানে নামা হেলিকপ্টারও ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান।

পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাংক নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো, মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মাইলস ক্যাগিনস বলেছেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য খুবই ‘গুরুত্বপূর্ণ এক ঘটনা’।

“যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে বিমান হামলা কিংবা সাইবার হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষায় থাকা ইরানের মূল অস্ত্রশস্ত্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও বহনযোগ্য মানব-চালিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অটুট আছে, সম্ভবত কেউ ওই ধরনের ব্যবস্থাপনার সাহায্যেই এই এফ-১৫টি ভূপাতিত করেছে,” বলেছেন তিনি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১