নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
NY Rally in Protest against Minority Repression
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, বন্ধ, রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে নিউইয়র্কে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় ‘প্রবাসী বাংলাদেশি আমেরিকান’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান—কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতেই একজন নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রকে প্রতিটি নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের ওপর সংঘটিত এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়। ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা না হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে। তারা রাষ্ট্রের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। বক্তাদের মতে, জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়।
এ সময় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও সরকারের উদাসীনতা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রদীপ করের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন , দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি নবেন্দ দত্ত, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বাঞ্চল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল হাসান মামুন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক টি মোল্লা, শেখ আতিক, সিটি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন সাখাওয়াত, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুর করিম, সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও শেখ হাসিনা মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব শেখ আতিক, আওয়ামী লীগ নেতা শ্যামল কান্তি চন্দ্র, বিশ্বাস লিটন হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান সরদার, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনজুর চৌধুরী, যুবলীগ নেতা শেখ জামাল, কানেকটিকাট স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী, সম্মিলিত বর্ষবরণের আহ্বায়ক মোজাহিদ আনসারী, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শাহ সেলিম, শেখ হাসিনা মঞ্চের সভাপতি আব্দুল জলিল, সাধারণ সম্পাদক কায়কোবাদ, আতাউর রহমান, শহিদুল ইসলাম, মহিলা আওয়ামী লীগের রুমানা আক্তার ও জেড এ জয়, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি আনিসুজ্জামান সবুজ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কিবরিয়া জামান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থী শক্তি ডি গুপ্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর মিয়া।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অপরাধীর রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
তারা আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক অধিকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর অনুগ্রহ নয়—এগুলো প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এসব অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকে কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন এবং ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও নাগরিক নিরাপত্তার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস থেকে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশের প্রতি একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেন—কোনো নাগরিকের জীবন ও অধিকার যেন ধর্ম, পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক মতের কারণে অনিরাপদ না হয়। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার এবং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেই হবে।