ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ৭০ শতাংশ আমেরিকান নাখোশ

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ৭০ শতাংশ আমেরিকান নাখোশ

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে আগামীতে জ্বালানি তেলের (গ্যাসোলিন) দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। ৮ জুন শেষ হওয়া বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোস-এর এক যৌথ জনমত জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩৫ শতাংশ নাগরিক হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে করা আগের জরিপের সমান। এই হার তার চলতি মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং ৩৪ শতাংশের (এপ্রিলের জরিপ) চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি এবং প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের ৩৩ শতাংশের খুব কাছাকাছি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের বড় একটি অংশ এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের ওপর অসন্তুষ্ট। এই যুদ্ধের জেরেই দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার গুঞ্জনে জ্বালানির দাম কিছুটা কমলেও ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন আগামী এক বছরে তেলের দাম আরও বাড়বে। বিপরীতে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাওয়ার আশা করছেন। বাকিরা কোনো মন্তব্য করেননি বা দাম একই থাকবে বলে মনে করছেন। ছয় দিন ধরে এই অনলাইন জরিপটি চালানো হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলার শুরু করলে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে দ্রুত যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ও ইসরায়েলে ইরানও আক্রমণ শুরু করে। এ সময় ওই অঞ্চলের একটি সংকীর্ণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয় ইরান। বন্ধ করার আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস বাণিজ্যের এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো।

৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির কারণে দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার গতি কমলেও শান্তি আলোচনা এখনো কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ : যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি মাত্র ২২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে ৭০ শতাংশই তার ওপর অসন্তুষ্ট। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর ইস্যুতে ট্রাম্পের এই রেটিং তার পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট দলীয় জো বাইডেনের শেষ সময়ের চেয়েও খারাপ। বাইডেনের মেয়াদের শেষ দিকে এই ইস্যুতে ২৯ শতাংশ সমর্থন এবং ৬৩ শতাংশের অসন্তোষ ছিল।

বাইডেন প্রশাসনের সময় কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বেশ ভুগিয়েছিল, যা ট্রাম্পকে কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করে। ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন।

তবে এখন জ্বালানির এই চড়া দাম আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিনি ইরানে হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ২৫ শতাংশ মনে করেন এই হামলার সুফল ব্যয়ের তুলনায় বেশি ছিল।

দেশজুড়ে চালানো এই জরিপে আরও দেখা যায়, এই সময়ে যদি নির্বাচন হয় তবে ৪১ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকানদের ভোট দেবেন।

অর্থনীতি পরিচালনায় গত বছর পর্যন্ত ভোটাররা রিপাবলিকানদের বেশি ভরসা করলেও এখন সেই ব্যবধান ঘুচে গেছে।

জরিপে ৪৫৩১ জন মার্কিন নাগরিক অংশ নেন, যেখানে ভুলের মাত্রা (মার্জিন অব এরর) ছিল ২ শতাংশ।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০