আমেরিকায় বিএনপির স্থবিরতার দায় কার?

জর্জিয়া প্রতিনিধি

০৯ মে ২০২৬

আমেরিকায় বিএনপির স্থবিরতার দায় কার?

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিএনপির কর্মশালায় নেতৃবৃন্দ। ছবি-জাগো প্রহরী।

‘সুুপার ফাইভ’র টোপ দিয়ে প্রতিটি স্টেট কমিটির সভাপতি, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদের নির্বাচনের সময় বলা হয়েছিল যে, এই ৫ জনের সমন্বয়ে বিএনপির স্টেটসমূহের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেবে হাই কমান্ড। এমন অঙ্গিকার করেছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। এরপর অতিবাহিত হচ্ছে ২৪ মাসের অধিক সময়। স্টেটসমূহ থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকাও সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু অঙ্গিকার অনুযায়ী হাই কমান্ডের অনুমোদন মেলেনি। এ নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। পদ-পদবির বাণিজ্যের তীরও আনোয়ার হোসেন খোকনের প্রতি। দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় প্রবাসের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেকে ক্ষুব্ধ। যা দৃশ্যমান হয় নিউইয়র্কে কর্মী সম্মেলনে এবং জর্জিয়ার আটলান্টায় কর্মশালায়। মিশিগানের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সংবাদ সম্মেলনে আল্টিমেটাম দিয়েছেন কমিটির জন্যে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেড় দশক আগে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি। এরপর বিকল্প হিসেবে স্টেট কমিটির অবতারণা করা হয়। বিএনপির হাই কমান্ডকে ধারণা দেয়া হয় যে, স্টেট কমিটিই যথেষ্ঠ মার্কিন মুল্লুকে বিএনপির কর্মসূচির পরিপূরক তৎপরতার জন্যে। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নাকি লবিংয়েও কোন সাফল্য দেখাতে পারেনি-এমন কানপড়াও দেয়া হয়েছে। একই কারণে যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের কমিটিও কয়েক বছর আগে ভেঙ্গে দেয়ার পর নতুন কমিটি নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই বলে শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রাজনীতির পট-পরিবর্তনে অত্যন্ত মূখ্য ভূমিকায় থাকা মার্কিন মুল্লুকে বিএনপি তার ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোন মূল্যায়নই করতে চাচ্ছে না-এ অভিযোগ ৩০/৩২ বছর ধরে কর্মরতদের। বিএনপির হাই কমান্ডের ধারণা, বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে টাকার বস্তা নিয়ে মুহম্মদ ইউনূসের মত একজনই যথেষ্ট।

এদিকে, আটলান্টায় ২৫ ও ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কর্মশালায় যুক্তরাষ্ট্রের ২ স্টেট, কানাডার ৩ এবং ইটালির একটি শাখার শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। আয়োজনের প্রাক্কালে আনোয়ার হোসেন খোকন এ নিয়ে অনেক কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতফলন ঘটেনি বলে অংশগ্রহণকারি অনেকের মন্তব্য। ৩০/৩২ যাবত বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র পরিবারে যুক্ত কয়েকজন এ সংবাদদাতার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, জঙ্গি আন্দোলনের পর ক্ষমতায় বসা ইউনূস সরকারের আমালে এই আনোয়ার হোসেন খোকন অনেক তদ্বিরবাজি করেন। তারেক রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব কর্মকান্ডের ফিরিস্তি বিএনপির হাই কমান্ডে ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষমতাসীন বিএনপির আমলে কোথাও ঠাঁই হয়নি। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকার অনুমোদন আদায়েও সক্ষম হননি। অর্থাৎ হাই কমান্ডে নিজের অবস্থান নড়বড়ে হওয়ায় এই কর্মশালার বাহানা করেছেন। যাতে তারেক রহমানের সদয় দৃষ্টি লাভে সক্ষম হন। যদিও বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। কারণ, স্টেট সমূহের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা বারবার নিয়েও অনুমোদনে সক্ষম হননি। এছাড়া কথিত সুপার ফাইভের নামেও নিজের সমর্থকদের পুনর্বাসন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, এই কর্মশালার আলোচ্যসূচির অন্যতম ছিল প্রবাসীদের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং সামনের নির্বাচনে তার প্রয়োগ ঘটানো। এ সময় উল্লেখ করা হয় যে, প্রবাসীদের ভোটে জামাতে ইসলামী দুটি আসনে জয় পেয়েছে। তারেক রহমানের বিজয়ে প্রবাসীদের ভোট গুরুত্ব রেখেছে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে সামনের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থক সকল প্রবাসীকে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সংকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইনে তালিকাভুক্তির কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাবেন সংশ্লিষ্ট স্টেটের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারিরা। ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। এই ধারায় বিএনপির সত্যিকারের সমর্থক প্রবাসীদের তালিকাও করা হচ্ছে সদস্য হিসেবে-যাতে ভবিষ্যতে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ লোকজন পদ-পদবি না পায়।

এই কর্মশালার প্রথমদিন প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। উভয় দিন কর্মশালায় বিশেষ সম্মানীত অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ এবং প্রখ্যাত চিন্তাবিদ শেখ ওহিদুজ্জামান।

কর্মশালায় বক্তব্যকালে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির রাজনীতির শুরু থেকে আজকের নেতৃত্বের সংক্ষিপ্ত ধারাবিবরণী দেন ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাফিজ খান সোহয়েল। তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ অবসানে আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনকে সাংগঠনিক দায়িত্ব বিকেন্দ্রীয়করণ করার আহবান জানান অর্থাৎ সহকারি আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাহিদুল খান সাহেলের নেতৃত্বে একটি সাব কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন স্টেট কমিটিসমূহকে পরিপূর্ণতার জন্যে। সোহেল আরো উল্লেখ করেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের অভিমান করলে চলবে না। দাবি ও অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সোহেল আরো উল্লেখ করেন, দু.’সপ্তাহের জন্যে ঢাকায় ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীসহ ৪০ জন মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। নিজের মতামত উপস্থাপন করেছি। অন্যদেরকেও এই কাজটি করতে হবে। কারণ গত ১৫ বছর আমরা সকলেই অনেক শ্রম দিয়েছি বিএনপির জন্যে।

দ্বিতীয় দিন সাংগঠনিক আলোচনার সময় দুই দিনব্যাপী এই প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রহমান আজাদ বক্তব্য প্রদানের সময় জর্জিয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী লোদি উচছুঙ্খলতা করেন। মারদাঙ্গা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল। পুলিশ এসেছিল সেখানে। তবে নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে তার অবসান ঘটে। জর্জিয়া বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবি পূরণ না হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকেই এমন বিরোধ চলে আসছে এবং এজন্যে দায়ী করা হচ্ছে আনোয়ার হোসেন খোকনকে।

এদিকে এই কর্মশালাকে সফল একটি আয়োজন হিসেবে দাবি করে প্রেস রিলিজ দেয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের সাথে জানাচ্ছি যে, জর্জিয়া বিএনপির আতিথেয়তায় আটলান্টায় অনুষ্ঠিত “উত্তর আমেরিকা বিএনপি কর্মশালা ও সম্মেলন-২০২৬” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উত্তর আমেরিকার প্রায় ২০-২৫টি স্টেট কমিটির প্রতিনিধি এবং ৫ থেকে ১৫ জন করে সক্রিয় নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে এই আয়োজন এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের অভাবনীয় সাফল্যের মূলে ছিলেন জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খানের (সাহেল) বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব। উত্তর আমেরিকার ২০-২৫টি কমিটিকে এক সুতোয় গেঁথে এই বিশাল মহাযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি তাঁর অনন্য সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রেস রিলিজে আরো বলা হয়েছে যে, অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন জর্জিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন শরীফ আমজাদ। সকলের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য এই সম্মেলনকে এক অনন্য উচ্চতায় ও তাত্ত্বিক পূর্ণতায় উন্নীত করেছে। এটি ছিল মূলত দীর্ঘ ৩০-৪০ বছরের পুরনো রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের এক আবেগঘন পুনর্মিলনী, যা উত্তর আমেরিকায় বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুসংহত করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। ঐতিহাসিক এই সফলতার অংশীদার হওয়ার জন্য জর্জিয়া বিএনপিসহ সকল নেতা-কর্মী ও সংবাদ মাধ্যমকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

এই সম্মেলনের আগে নিউইয়র্কে স্টেট, নিউইয়র্ক মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আলাদা আলাদা কর্মী সম্মেলন হয়েছে। সেখানেও মারপিট হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না আসায় মূলত ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা হতাশা থেকে মারমুখী হচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। নিউইয়র্কে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার পর মিশিগানে সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে তামাদি ‘সুপার ফাইভ’র বিলুপ্তির পর পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবি জানানো হয়েছে।

মিশিগান বিএনপির বর্তমান কমিটিকে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ উল্লেখ করে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা এবং নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

২৫ এপ্রিল দুপুরে মিশিগানের ওয়ারেন শহরের স্পাইসি-২১ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থকরা এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও মিশিগান স্টেট বিএনপির সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব। মিশিগান স্টেট বিএনপির সাবেক সভাপতি মুজিব আহমদ মনির, মিশিগান বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাশিদ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক বকুল তালুকদার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো ধরনের কাউন্সিল বা নির্বাচন ছাড়াই একই পদে বহাল রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নেতা-কর্মীদের অভিযোগের পাহাড় এখন ক্রমশ ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মিশিগান বিএনপির ভূমিকা ছিল হতাশাজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ। নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সঙ্গে গোপন সমঝোতার কারণে তারা প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেননি। এতে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গড়া এই গণমুখী সংগঠনের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশি অধ্যুষিত রাজ্য মিশিগানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দলের চেয়ারপারসন (ভারপ্রাপ্ত) তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ হাই কমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
কথিত সুপার ফাইভের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা, দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ, দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা এবং নিজেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ছাড়া নেতাকর্মীদের না জানিয়ে ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মিশিগানে হাজার হাজার বিএনপি কর্মী-সমর্থক থাকা সত্ত্বেও ভোট সংগ্রহ ও প্রেরণে দায়িত্বশীলতার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। দুই পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, “আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ-আমাদের প্রিয় সংগঠন বিএনপিকে রক্ষা করব।” কোনো অশুভ শক্তি যাতে দলের ক্ষতি ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সকল নেতাকর্মীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রায় দুই দশকেও নানা অজুহাতে কোনো কাউন্সিল ডাকা হয়নি। ২০২৩ সালের ৯ মে ২ বছর মেয়াদে ৫ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও তিন বছরেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিলে বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি সড়কের নামকরণের প্রস্তাব গৃহীত হলেও পরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলরদের বিরোধিতার কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে সেই কাউন্সিলরদের বিএনপির ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মানিত করা হয়, যা সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এ বিষয়টিকে নেতৃত্বের দুর্বলতা, অদূরদর্শিতা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ না করার ফল বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন মিশিগান বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মামুনুর রেজা শাহেল, ছাত্রদল এমসি কলেজের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেন খান, মিশিগান স্টেট বিএনপির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক বেলাল আহমদ, ফয়জুল ইসলাম, নাজমুল হক কামাল, রেদওয়ান আহমদ রাজন, নিজাম উদ্দিন মাস্টার, জিল্লুর রহমান জিল্লু, আব্দুল কাদির, এবাদুর রহমান এবাদ, ফরিদ আহমদ ফাহিম, পারভেজ আহমদ, আবুল হাসান, আব্দুল্লাহ আল মান্না, আব্দুস সামাদ মুন্না, তাজুল ইসলাম শিপলু, স্বেচ্ছাসেবক দল মিশিগানের সভাপতি আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মুর্শেদ, শাহ জুবেদ, আব্দুস সালাম, আহমেদুর রহমান শিপার, তানজিম আহমদ, হামান আহমদ এবং এমাদ উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বিএনপি নেতা আব্দুল বাসিত।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১