জাগো প্রহরী ডেস্ক
০১ অক্টোবর ২০২৬
Japan PM Takaichi
বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদন ফি একলাফে ২০ গুণ বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন (১,২৭০ মার্কিন ডলার) করেছে জাপান। তাছাড়া, জাপানে স্থায়ী হতে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য নতুন আয়, পেনশন ও জাপানি ভাষা সংক্রান্ত কিছু শর্তও আরোপ করেছে সরকার।
বর্ধিত ফি কার্যকর হওয়ার আগে আবেদন জমা দিতে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জাপানের অভিবাসন দপ্তরগুলোর বাইরে আবেদনকারীদের লম্বা লাইন দেখা গেছে।
রাজধানী টোকিওর মূল অভিবাসন ব্যুরোতে একেকজনকে সাত ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অভিবাসন নীতিতে দফায় দফায় পরিবর্তনের অংশ হিসাবে ফি বাড়ানোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর লক্ষ্য, দেশটিতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা। এর আগে জুলাইয়ে সব বিদেশির ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে জাপান।
৫০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল জাপানের প্রথম ভিসা ফি বৃদ্ধি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, “মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায়” নিয়ে এই ফি বাড়ানো হয়েছে।
জাপানে অভিবাসন এখনও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ও নিয়ন্ত্রিত একটি বিষয়। তবে দেশটির বয়স্ক জনগোষ্ঠী বাড়তে থাকায় শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, যা এর আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। সেটি ছিল দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে বিদেশি বাসিন্দা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাপানের অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
গত বছর অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসন ব্যবস্থাপনা জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
স্থায়ী বসবাসের অনুমতির ফি বাড়ানোর কয়েক দিন আগে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি লেখেন, জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ায় ‘জনগণের একাংশ উদ্বেগ বা অন্যায্যতা বোধ করতে পারেন’, এ বিষয়টি তার সরকার স্বীকার করে।