নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মার্চ ২০২৬
1971 Genocide. File
গত শুক্রবার ২০ মার্চ মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি পরিষদে’ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি এবং ওই বর্বরতার জন্যে দায়ী পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে বিচারে সোপর্দ করার জন্যে ঐতিহাসিক একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ( ওহাইয়ো) গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান উত্থাপিত বিলটি পররাষ্ট্রসম্পর্কিত কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের গণহত্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি চেয়ে উত্থাপিত রেজ্যুলেশনে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
রেজ্যুলেশনে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঘোষিত অপারেশন সার্চলাইটের সময় পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের ইসলামপন্থী সহযোগীদের (জামায়াত-ই-ইসলামী দ্বারা অনুপ্রাণিত) দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতার নিন্দা করে। এটি স্পষ্টভাবে স্বীকার করে যে, যখন সমস্ত ধর্মের জাতিগত বাঙালিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, তখন হিন্দুদেরকে নির্মূল করা হয়েছিল, গণহত্যা এবং গণহত্যার মাধ্যমে জোরপূর্বক হত্যা করা হয়েছিল। যেকোনো জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর নিধনে সম্মিলিত অপরাধকে জাতিসংঘ সনদের পরিপূরক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এই কাজগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এই রেজ্যুলেশনে।
“ইতিহাস সত্য দাবি করে৷ ২৫ মার্চ, ১৯৭১-এ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত সন্ত্রাসের পদ্ধতিগত অভিযান – মার্কিন কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দ্বারা নথিভুক্ত – গণহত্যার জাতিসংঘের সংজ্ঞা পূরণ করে,”-রেজ্যুলেশন উত্থাপনকালে বলেছেন কংগ্রেসম্যান ল্যান্ডসম্যান৷ কংগ্রেসম্যান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালিদের ওপর পাক হায়েনাদের নৃশংসতা আলোকপাতকালে আরো উল্লেখ করেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত , বেঁচে যাওয়া এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এই ভয়াবহতাকে স্বীকার করার জন্য ঋণী, বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুদের ইচ্ছাকৃতভাবে টার্গেট করা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অনেক আগেই দেয়া উচিত ছিল এবং এটি একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠায় যে আমরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা দেখেও না দেখার ভান করে থাকবো না।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভয়ংকর পরিস্থিতির আলোকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই কংগ্রেসম্যানসহ মার্কিন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক থাকা লোকজন বাংলাদেশের ইউনূস-আমলে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিসহ একাত্তরের গণহত্যার কথকতা স্থান পায়। সেটির মূল আয়োজক ছিল ‘হিন্দু অ্যাকশন’ নামক একটি সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় উত্থাপিত হলো এই রেজ্যুলেশন-এ তথ্য জানান নিউইয়র্কে ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দীলিপ নাথ। তিনি এ সংবাদদাতাকে বলেন, ‘একাত্তরের গণহত্যার জন্যে দায়ী জামায়াতে ইসলামের উত্থান ঘটেছে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের আস্কারায় জামায়াত আবারো মানবতা-বিরোধী জঘন্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। এমনকি একাত্তরের মানবতা বিরোধী অপরাধে দন্ডিতদের ‘ভালো মানুষ’ সাজাতে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘শোক প্রস্তাব’র নামে তামাশাও করেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। আশা করছি কংগ্রেসে রেজ্যুলেশনটি গৃহিত হলে একাত্তরের ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামকে আবারো যুক্তরাষ্ট্র নিষিদ্ধ করবে।’ দীলিপ নাথ উল্লেখ করেছেন যে, এই বিল যাতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পাস হয় সেজন্যে নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেসম্যানদের সাথে প্রবাসীদের জোরদার লবিংয়ের আহবানে শীঘ্রই নিউইয়র্কে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হবে।