নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ এপ্রিল ২০২৬
আলোচনায় সংযুক্ত বিশিষ্টজনেরা। ছবি-জাগো প্রহরী।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বৌদ্ধিক চর্চাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে লন্ডনভিত্তিক নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সৃজন’। গত ২৯ মার্চ লন্ডন সময় বেলা ২টায় ভার্চুয়ালি এক আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে এই সাংস্কৃতিক ও চিন্তাধারাভিত্তিক সংগঠনটির শুভ সূচনা ঘটে।
শুরুতে সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন ড. হাসনীন চৌধুরী। এরপর আয়োজক সংগঠন ‘সৃজন’-এর পক্ষ থেকে আহ্বায়ক ও সংগঠক সাহাব আহমেদ বাচ্চু অনুষ্ঠানে সংযুক্ত দেশ-বিদেশের সকল গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সুধীজনকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সৃজন-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রখ্যাত কবি ও লেখক নির্মলেন্দু গুণ। তিনি এই উদ্যোগের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, “সময়ের প্রেক্ষাপটে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক চিন্তাকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সৃজন বাঙালির মনন ও মেধাকে বৈশ্বিক আঙিনায় নতুনভাবে পরিচিত করবে।”
সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন শাফকাত এজদি ও লেনিন হক। সৃজনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন অনিক সুমন ও রম্য রহিম। বক্তারা জানান, সৃজন কেবল একটি সংগঠন নয় বরং একটি গবেষণাভিত্তিক ‘কালচারাল থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে। এর বিশেষ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে একটি “ডিজিটাল হেরিটেজ ল্যাব”প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ প্রোগ্রাম এবং নিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ।
অনুষ্ঠানে ধনঞ্জয় পালের উপস্থাপনায় একটি সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি করেন বন্যা চক্রবর্তী ও শ্রী গাঙ্গুলী। সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন হুমায়ুন কবির ও ইসমত শিল্পী। উদ্বোধনী আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “বিংশ শতকের বাংলা সাহিত্য রূপায়ণে প্রতীচ্যের শিল্প ও দর্শনের প্রভাব”।
শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. পল্টু দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট চিন্তক টি এম আহম্মদ কায়সার। তিনি তাঁর প্রবন্ধে দেখান যে, বাংলা সাহিত্য কেবল পাশ্চাত্য দর্শনকে অনুকরণ করেনি বরং নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তাকে রূপান্তর ও পুনঃনির্মাণ করে এক অনন্য সাহিত্যধারার জন্ম দিয়েছে। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ড. পদ্মকালী ব্যানার্জী, প্রফেসর নিত্যানন্দ চক্রবর্তী, ড. আলী আহমদ এবং সমাজবিজ্ঞানী পার্থ সরকার।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সমাপনী বক্তব্যে সৈয়দ এনামুল হক সৃজনের এই যাত্রায় উপস্থিত সকলের সহযোগিতা কামনা করেন ও অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হওয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।