নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ মার্চ ২০২৬
flight cancellations for Iran war
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা জনিত কারণে থমকে দাঁড়িয়েছে বিমান চলাচল ব্যবস্থা। মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ঢাকায় চলাচলকারি প্রায় সকল ফ্লাইট বাতিল/স্থগিত অথবা বিলম্বের তালিকাভুক্ত হচ্ছে। ৬ মার্চ শুক্রবার পর্যন্ত ষষ্ঠদিনের মত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের এমন পরিস্থিতির অসহায় ভিকটিম হয়েছেন স্বজনের সাথে ঈদ উদযাপনে আগ্রহী প্রবাসীরাও। বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বাংলাদেশি ট্র্যাভেল ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই যারা নানাবিধ কারণে ঢাকায় গেছেন, তারা ফিরতে পারছেন না। কখন ফ্লাইট চলবে-সেটিও জানতে সক্ষম না হওয়ায় ট্র্যাভেল এজেন্টকে ফোন করছেন। নিউইয়র্ক সময় গভীর রাতেও ঢাকা থেকে ফোন করেই চিৎকার করা হয় ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্যের জন্যে। ফোনের অপরপ্রাপ্ত অনুধাবনের চেষ্টা করেন না যে, নিউইয়র্কে গভীর রাতে ট্র্যাভেল এজেন্ট ঘমিয়ে আছেন কিনা। সৌজন্যবোধও দেখাতে চান না অনেক টিকিট-ক্রেতা।
উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্কস্থ ‘আমেরিকান ট্র্যাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র সিনিয়র সদস্য এবং ডিজিটাল এস্টোরিয়া ট্র্যাভেল এজেন্সির প্রেসিডেন্ট ও সিইও নজরুল ইসলাম ৫ মার্চ এ সংবাদদাতাকে বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত ৬ দিনে আটলান্টিক মহাসাগর এবং তার আশেপাশে দিয়ে চলাচলকারি ২০ হাজারের অধিক ফ্লাইট বাতিল/স্থগিত অথবা সময়সূচির পরিবর্তন ঘটেছে। যুদ্ধ যত ভয়ংকর আকার ধারণ করছে ততই ফ্লাইট চলাচলের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধের পরিধি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের জন্যে ট্র্র্যাভেল সতর্কতা জারি করেছে। এ অবস্থায় আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যেসব বাংলাদেশি আমেরিকান টিকিট কিনেছেন তারা রয়েছেন বিপাকে। এ ধরনের নাজুক পরিস্থিতির ভিকটিম হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ হাজার প্রবাসী।
লসএঞ্জেলেস থেকে টেক্সাস-মিশিগান-ফ্লোরিডা-জর্জিয়া-ওয়াশিংটন মেট্র-পেনসিলভেনিয়া-নিউজার্সি হয়ে নিউইয়র্ক পর্যন্ত বিস্তৃত প্রবাসীদের বড় একটি অংশ এবার ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়েছেন স্বদেশে স্বজনের সাথে। নজরুল ইসলাম বলেন, সেই পরিকল্পনা এখন নষ্ট হওয়ার পথে। নজরুল ইসলাম অবশ্য উল্লেখ করেছেন যে, কেউ কেউ টিকিট পাল্টিয়ে অর্থাৎ অতিরিক্ত ব্যয়ে ইন্ডিয়া এয়ারলাইন্স অথবা ক্যাথে প্যাসেইক অথবা টার্কিশ এয়ারলাইন্স অর্থাৎ প্রশান্ত সাগরের ওপর দিয়ে চলাচলকারি ফ্লাইটে যাবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সে সব ফ্লাইটের টিকিট সংকট প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্য বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ১৮০০ ডলারের নীচে রাউন্ড ট্রিপ পাওয়া যাচ্ছে না।
একই অভিমত পোষণ করেছেন আটাবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সেলিম হারুন (কর্ণফুলি ট্র্যাভেল) এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মোরশেদ (স্কাইল্যান্ড ট্র্যাভেল)। তারা উভয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে ঈদ উদযাপনে আগ্রহীরা পড়েছেন মহাবিপাকে। ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ঈদে বাংলাদেশি আমেরিকানরা যে বিপুল অর্থ ব্যয় করতেন-তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।
এদিকে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি তথা দক্ষিণ এশিয়ানদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের ‘স্মৃতি ট্র্র্যাভেলস’ ও ‘স্মৃতি মানি রেমিট্যান্স’র প্রেসিডেন্ট এবং সিইও ড. মাহাবুবুর রহমান টুকু এ সংবাদদাতাকে জানান, ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় অনেক প্রবাসী স্বজনের জন্যে বিশেষ সুবিধায় রেমিট্যান্স বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমার এখান থেকে ডেবিট কার্ডে রেমিট্যান্স করলে ট্রাম্পের ১% হারের ফেডারেল টেরিফ গুণতে হচ্ছে না। অপরদিকে, বাংলাদেশে পৌঁছার পর যোগ হচ্ছে আরো ২.৫% হারে প্রণোদনা। স্বজনের সাথে সশরীরে ঈদ উদযাপনের বিকল্প হিসেবে নগদ অর্থ পাঠিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পন্থা অবলম্বন করেছেন অনেক প্রবাসী।