নিউজ ডেস্ক
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
EU Election Observation Team Press Meet In Dhaka
বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ‘রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস। ইইউ মিশনের স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন উপলক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন তিনি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জাবাবে ইভার্স ইইয়াবস বলেন, তারা সেনাবাহিনী, পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন।
“দেশে বেশি ঝুকিপূর্ণ এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের সার্বিক ধারণা হল, পরিস্থিতি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি বলব, ভোটের পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। যেমনটা আপনি বলেছেন, আমরা সব জেলা ও অঞ্চলে প্রার্থী ও কর্তৃপক্ষ উভয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি।
“এবং সাধারণ পরিস্থিতি খুবই আশাব্যঞ্জক এই অর্থে যে, আমরা প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রতিটি জেলা ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের বেশিরভাগই একটি বিষয়ে জোর দিয়েছেন, এটা যেন বাংলাদেশে ইতিহাস এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায় হয়। এবং সে কারণে আমি বলব যে, বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলেও সাধারণ পরিস্থিতি এবং প্রত্যাশা খুবই আশাব্যঞ্জক।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়ে কী জানা গেছে প্রশ্নে ইভার্স ইইয়াবস বলেন, “কেবল নির্বাচনি প্রচারের সময়েই নয়, তার আগে থেকেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা এটা নিয়ে কথা বলেছি।
“নির্বাচন প্রক্রিয়ার এই অংশগ্রহণমূলক বিষয়টির উপর আমরা অবশ্য জোর দিয়েছি। নারীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়, সব সংখ্যালঘুর এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্তি করাটা খুবই কাঙ্খিত। এ বিষয়েও আমরা নজর রাখব।”
নির্বাচন ঘিরে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। যারা ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় নির্বাচনের দিন চলমান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
ইভার্স ইইয়াবস বলেন, “স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার শহর, নগর ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচনে দিনব্যাপী তাদের করা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জানুয়ারির মাঝামাঝিতে আসা ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকের সঙ্গে যুক্ত হলেন এই স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা। ২০০৮ সালের পর এবারই প্রথম পূর্ণমাত্রার পর্যবেক্ষণ দল বাংলাদেশ পাঠাল ইউরোপীয় জোট।
তারা নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচন প্রশাসনের প্রস্তুতি, নির্বাচনি প্রচারণার কার্যক্রম এবং ভোটার সচেতনতামূলক উদ্যোগ। এছাড়া, তারা রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশীজনদের সাথেও নিয়মিত বৈঠক করছেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মিশনটিকে আরও জোরদার করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশন থেকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক, পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও মিশনে যোগ দিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভোটের দুদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে একটি বিবৃতির মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে ইইউ মিশন।