আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জানুয়ারি ২০২৬
UK Transport Minister Heidi Alexander
ইরানে দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভ-সহিংসতার অবসানে দেশটিতে ‘‘শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর’’ দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিদায়ই একমাত্র সমাধান বলে ১১ জানুয়ারি ব্রিটেনের মন্ত্রিসভার এক সদস্য ওই মন্তব্য করেছেন।
ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া গত দুই সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলমান এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। এই সংঘাতের সমাধানের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেছেন, ইরানে সহিংসতার অবসানই যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘ব্রিটিশ সরকার সবসময়ই ইরানকে একটি বৈরী রাষ্ট্র হিসেবে দেখেছে। আমরা জানি, তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরেও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে নিজেদের জনগণের ক্ষেত্রে তারা দমনমূলক শাসনব্যবস্থা চালু রেখেছে।
ব্রিটিশ এই পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে ইরানে যে সহিংসতা চলছে, তা থামানোর চেষ্টা করাই আজকের দিনের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, সেখানকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে যাই ঘটুক না কেন, আমরা চাই তা যেন শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে হয়। যেখানে মানুষ মৌলিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে এবং ইরানে যথাযথ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আবার ফিরে আসবে।
এদিকে বাইরের শক্তির সমর্থনে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের ভেতরে দাঙ্গা চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগে করে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। ১১ জানুয়ারি কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের জাতীয় পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিওতে সার বলেছেন, আমরা ইরানি জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামে সমর্থন এবং তাদের সাফল্য কামনা করি। তিনি বলেন, আমরা মনে করি তারা স্বাধীনতার যোগ্য… ইরানের জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।
ইসরায়েলি এই মন্ত্রী বলেছেন, ‘‘আমাদের একটি বড় সমস্যা আছে—যা শুধু আমাদের সমস্যা নয়, এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা। আর সেটি হলো ইরানি শাসনব্যবস্থা; যা সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার এক নম্বর রপ্তানিকারক।’’
পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাবাহিনী ইরানের পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, এই বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা সত্ত্বেও, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সক্ষমতা ও অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে শক্ত হাতে জবাব দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। ইরান বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করেছে।
এর আগে এদিন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আইনপ্রণেতাদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ-পরিবহন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। সূত্র: হারেৎজ, এএফপি।