ঢাকা সংবাদদাতা
১৪ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫২ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে পাঠানো হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন বলে তথ্য প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেনের।
কারাগারে যাওয়া নেতা-কর্মীরা হলেন যুবলীগ নেতা মোতালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, আমির হোসেন, আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান, শাহিন হোসেন ইমন, লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাব্বি ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবু সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি, রাজন মিয়া, মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক, আশিক ও দুই কিশোর ঈশান, হাসিব।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাফিজুর রহমান ৫২ আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন এবং দুই কিশোরকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক-এম, রোড-২৮-এর একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও ৫২ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। ব্যানারগুলোর মধ্যে ১৫ অগাস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের কথা বলা ছিল।
অভিযানের পর ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেছিলেন, গ্রেপ্তাররা সবাই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নারায়ণগঞ্জ বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য। এখানে আরও কয়েকজন বড় নেতার আসার কথা ছিল; তবে তারা আসেননি। অংশগ্রহণকারীরা তরুণরা সবাই নতুন কেনা সাদা পাঞ্জাবি পরা ছিলেন। ওই বাসাটির মালিক কে এবং অনুষ্ঠানের অর্থায়ন কে করেছে, এসব নিয়ে পুলিশ খোঁজখবর করছে।