নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সোসাইটির বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কারণে বহুল আলোচিত বাংলাদেশ সোসাইটির গত ২৫ অক্টোবর যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল তা গত ২৩ অক্টোবর অপরাহ্নে নিউ ইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে নির্বাচনের ওপর অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

নির্বাচনের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫নভেম্বর। সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এই মামলা করেন সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান এ চৌধুরী। আর মামলায় বিবাদী হলেন সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, প্রধান নির্বাচন কমিশন আবু নাসের ও কোষাধ্যক্ষ মফিজুলইসলাম ভুঁইয়া।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টায় বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব অফিসে প্রধান নির্বাচন কমিশন আবু নাসের সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আবু নাসের ছাড়াও সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও নির্বাচন কমিশন মো. রুহুল আমিন সরকার।
এসময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনার বদরুল হক খান , মো. শামসুদ্দিন আজাদ, আহবাব চৌধুরী ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রধান নির্বাচন কমিশন আবু নাসের বলেন, আজকেই এই দিনটি বাংলাদেশ সোসাইটির ইতিহাসে এক কালো দিন, কারণ মামলা করার মধ্য দিয়ে সোসাইটির কাঙ্খিত নির্বাচন আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির বিরুদ্ধে মামলা করার অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এর জন্য বাংলাদেশ সোসাইটিসহ নিউইয়র্কের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে আবু নাসের বলেন, এই মামলায় নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের ফলে ২৫অক্টোবরের জন্য যে আইভিএম মেশিন ভাড়া করা হয়েছিল তার কোনো অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে আবু নাসের ও মোহাম্মদ আলী বলেন, মামলার বাদী সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী বিনা পয়সায় আজীবন সদস্য হওয়াসহ বেশ কয়েকটি অযৌক্তিক দাবী জানান, যা সোসাইটির গঠনতন্ত্র মেনে পূরণ করা সম্ভব নয়। ওসমান আলীর এই অন্যায় আবদার পূরণ না করার জন্যই তিনি মামলা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে, মামলার বাদী সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী ভোটার হওয়ার আবেদন করেছিলেন এবং সভাপতি পদে নির্বাচন করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। প্রথম তাঁকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাঁকে ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর প্রদান করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি মামলাবাজ এই অজুহাতে তা নাকচ করা হয়েছে।
সাপ্তাহিক জাগো প্রহরী’র প্রতিনিধি সাধারণ সম্পাদককে প্রশ্ন করেছিলেন যে, উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে একবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করে সাবেক কাউকে সাধারণ ভোটার তালিকায় থেকে প্রত্যাহার করা যায় কি ? এবং এভাবে কোনো নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ করা যায় কিনা ? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি দায়সারা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি তাদের অ্যাটর্নির উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া, সদস্য তালিকাভুক্তি এবং একই ঠিকানায় শতশত প্রবাসীর ভোটার হওয়ার অভিযোগ ছাড়াও ২৭৫ জন ভোটার ব্যবহার করেছেন একটি ফোন নম্বর-৬৪৬-৬৩৩-৭১৬৮। একইভাবে ২৩১ জনে ৬৪৬-৬৪৪-৩৫১৭, ২৩০ জনে ৩৪৭-৬৩৬-৫১৫৩, ২২৩ জনে ৭১৮-৪৩৭-৮০০০, ২০৭ জনে ৯১৭-৪৪২-৯০০২ টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ৩৫ হাজার ২৬৯ ভোটারের এই নির্বাচন নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্স, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কসে ৫টি কেন্দ্রে ২৫ অক্টোবর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মামলার কারণে ভোট স্থগিত হলো।
সেলিম-আলী এবং কুনু-ফিরোজ প্যানেলের ৪২ জন সরাসরি লড়ছেন ২১টি পদের জন্য এবং প্যানেলের বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন একজন, যার নাম রাব্বি সৈয়দ।