নিউজ ডেস্ক
১৬ জুন ২০২৬
Keir Starmer House Fire
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাড়ি ও গাড়িতে ২০২৫ সালে অগ্নিসংযোগের ঘটনার নেপথ্যে ছিল রাশিয়ার প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। অনুসন্ধানের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, রাশিয়ার নাশকতা ও অনলাইনে উস্কানিমূলক প্রচারের অংশ হিসেবে সেখানে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে উত্তর লন্ডনের কেনটিশ টাউনে প্রধানমন্ত্রীর একটি বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং তার ব্যবহৃত গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
বিবিসি লিখেছে, রুশভাষী এক ব্যক্তি ইউক্রেইনীয় ভাড়াটেদের এই হামলা চালানোর নির্দেশ ও অর্থ দিয়েছিলেন। টেলিগ্রাম সংযোগে নাশকতাকারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন রুশভাষী ইভজেনি লুকশিন, আদ্যক্ষর ‘ইএল’।
২৩ বছর বয়সী এই তরুণ একজন রাশিয়ান কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ এক রুশ সরকারি কর্মকর্তার সন্তান। রাশিয়ান এই কূটনীতিক ‘ইএল মানি’ ছদ্মনামে অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে অপরাধীদের দিয়ে ওই কাজ করান।
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালত দুইজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তারা হলেন ২২ বছর বয়সী ইউক্রেইনীয় নাগরিক রোমান ল্যাভ্রিনোভিচ এবং ইউক্রেইনে জন্ম নেওয়া রোমানীয় ২৭ বছর বয়সী স্তানিস্লাভ কারপিউচ।
ল্যাভ্রিনোভিচ টেলিগ্রামের মাধ্যমে ‘ইএল মানি’ র কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার লোভে নাশকতা চালিয়েছিলেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন কৌঁসুলিরা।
ইএল এর একটি বার্তাতেও এর ক্লু পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। যাতে বলা হয়েছে, “দেখুন, আপনি ব্রিটেনের খুবই উচ্চ পদমর্যাদার একজন মানুষের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। আমি আপনাকে অর্থ পাঠাব। আপনার নগরী ছেড়ে যাওয়া প্রয়োজন।”
লুকশিন টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপ এবং সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে দূর থেকে অপরাধীদের নির্দেশনা দিতেন এবং ল্যাভ্রিনোভিচকে তিনি রাশিয়ার নাগরিকত্ব দেওয়ার লোভও দেখিয়েছিলেন।
বিবিসি অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, টেলিগ্রাম ও অন্যান্য মাধ্যমে রাশিয়া ভিত্তিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাজ্যে কট্টর-ডানপন্থি এবং মুসলিমদের নামে জাল গ্রুপ তৈরি করে যুক্তরাজ্যে বিভাজন উস্কে দেওয়া এবং ভয় ছড়ানোর পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হত।
রাশিয়ার এইসব অ্যাকাউন্টে অগ্নিসংযোগের উদ্দেশ্য নিয়ে কিয়ার স্টারমারকে লক্ষ্যবস্তু করে মিথ্যা বক্তব্য পোস্ট করা হত। আর তা ছড়িয়ে দিতেন কট্টর ডানপন্থি ও ইসলাম-বিদ্বেষী কর্মী টমি রবিনসনের মতো মানুষেরা।
যুক্তরাজ্যে রাশিয়ার দূতাবাস প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, আমরা রাশিয়া এবং এর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে কোনও বেআইনি কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত করার যে কোনও চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করছি। রাশিয়া যুক্তরাজ্য বা দেশটির জনগণের জন্য কোনও হুমকি নয়, এমনকি যুক্তরাজ্যের প্রতি কোনও আগ্রাসী অভিপ্রায়ও নেই।
ওদিকে, বিবিসি’র করা প্রশ্নে রুশভাষী লুকশিন কোনো জবাব দেনিন। তবে লুকশিনের সঙ্গে যোগাযোগের কয়েকঘণ্টা পর তার যে প্রচার চ্যানেলকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল, সেটি গায়েব হয়ে গেছে।