ঢাকা সংবাদদাতা
০৪ মে ২০২৬
Limon's Coffin Reaches at Dhaka Airport
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ঢাকায় গিয়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৮ টা ৫৯ মিনিটে লিমনের মরদেহ বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইটটি (ইকে ৫৮২) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছায়।
এর আগে শনিবার রাত ৯.৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরাটসের একটি ফ্লাইটে লিমনের কফিন তুলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছিল ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস।
লিমনের মরদেহ বুঝে নিতে এদিন সকালেই বিমানবন্দরের কার্গো গেটে এসে হাজির হন তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত লিমনের মামা মর্তুজা শেখ জসিম সাংবাদিকদের বলেন, মরদেহ নিয়ে তারা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে যাবেন। মাগরিবের নামাজের পর লিমনের জানাজা ও দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা মার্কিন সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার আশা করি।”
যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।
ছেলের লাশ নিতে আসা লিমনের বাবা অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বিদেশে পড়তে গিয়ে আর যেন কেউ এভাবে প্রাণ না হারায়।
তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখের দিন আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। বলেছিল সে খুবই ব্যস্ত। কোনো ধরনের সমস্যা বা অসঙ্গতির বিষয়ে সে পরিবারকে কিছু জানায়নি।
“শুধু তার মাকে বলেছিল, ওই ছেলেটা সব সময় ঘরের ভেতর থাকে, অ্যাবনরমালের মত কেমন কেমন করে। ওর মা বলেছিল, থাক বাবা ও ওর মত থাক, তুমি তোমার মত ভালো থাকার চেষ্টা করো।”
লিমনের বাবা বলেন, “আমার সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে আমি নিজে অনেক কষ্ট করে ছেলে দুটোকে বড় করেছি। কোনদিন তাদের শারীরিক আঘাত করিনি। যা শাসন করেছি মুখে শাসন করেছি। আমার ছেলেকে এইভাবে মরতে হবে… উপরওয়ালা জানেন ছেলেটাকে কি কষ্ট দিয়ে মারছে।”
বৃষ্টির মরদেহ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী :
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালের বাইরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, লিমনের মা-বাবা ভাই, পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নাই। “তবে ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তার বাবার সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছি। এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে আমাদের যে মিশন আছে তারা সার্বক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ রেখেছে।”
নিহত বৃষ্টির প্রসঙ্গে তিনি শামা ওবায়েদ বলেন, “লিমনের সাথে আরো একটি মেয়ে আমাদের বাংলাদেশের সন্তান বৃষ্টিও নিহত হয়েছে। বৃষ্টির মরদেহ সম্প্রতি শনাক্ত করা গেছে। তার মরদেহ দ্রুত ফেরত আনার কাজ চলছে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্পন্ন করবে এবং এর জন্য যারা দায়ী তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।” এরপর লিমনের মরদেহ নিয়ে জামালপুরের উদ্দেশে রওনা হয় তার পরিবার।