নির্বাচনি ফল নিয়ে প্রবাসীদের ভাবনা

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে

Tarique after Vote

‘সহনশীলতা প্রদর্শন করে সবাইকে সাথে নিয়ে অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার পথ সুগম করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপামর জনতার এই প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে। বিএনপির এই বিশাল বিজয়ে আরো প্রমাণিত হলো যে, ‘তারেক রহমানের দূরদর্শিতাপূর্ণ নেতৃত্বই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবে। আমরাও রয়েছি সেই তারুণ্য-নির্ভর নেতৃত্বে অবিচল আস্থাশীল’-এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ আব্দুল লতিফ সম্রাট এবং মূলধারার রাজনীতিক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অপর সদস্য গিয়াস আহমেদ। ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে তারা ঢাকা থেকে টেলিফোনে এ সংবাদদাতার কাছে আরো উল্লেখ করেন যে, কাউকে মাইনাস করে গণতন্ত্র পরিপুষ্ট হতে পারে না। সকলকে নিয়েই আমাদের নেতা তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ নেবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরাও রয়েছেন বাংলাদেশকে নব-উদ্যমে এগিয়ে নেয়ার এই সাহসী অভিযাত্রায়।

উল্লেখ্য, ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচার সেলের সমন্বয়কারি গিয়াস আহমেদসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারিদের বেশ কয়েকজন ভোটযুদ্ধে কাজ করেন। তারাও ভোটারদের  অভূতপূর্ব সমর্থনে অভিভূত এবং বিএনপির বিশাল বিজয়ের জন্য আমেরিকা প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ঢাকায় অবস্থানকারী নেতৃবৃন্দের অন্যতম হচ্ছেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী সদস্য জিল্লুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা এম এ সবুর, মোশারফ হোসেন সবুজ, জসীমউদ্দিন ভূইয়া,  মো. সোলায়মান, জাকির এইচ চৌধুরী। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে থাকা প্রবাসী নেতৃবৃন্দের পক্ষে আরো আছেন মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, আবু সাঈদ আহমেদ, জসিমউদ্দিন ভিপি, মাওলানা আতিকুর রহমান, সাঈদুর রহমান সাঈদ, কাজী আসাদউল্লাহ প্রমুখ।

এদিকে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সম্যক ধারণা রাখা প্রবাসীরা মন্তব্য করেছেন, এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জামায়াত-শিবিরের সত্যিকারের জনসমর্থনের ব্যাপারটি দৃশ্যমান হলো। বিপুল অর্থ ব্যয় করেও তারা দুই দশক আগের চেয়ে খুব বেশী এগুতে পারেনি। চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, জামালপুরসহ বেশ কটি এলাকায় জয়ী হতে পারেনি একাত্তরের পরাজিত এই শক্তি ও তার দোসরেরা। বিএনপিহীন জামায়াত গত কদিনে যে ধরনের হুমকি-হুংকার দিয়েছে তা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়লো। সহজ-সরল প্রবাসীরা হাফ ছেড়ে বাঁচলেন একাত্তরের ঘাতকদের কবল থেকে জাতি রক্ষা পাওয়ায়। যদিও অধিকাংশ প্রবাসীই এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি নন।

আওয়ামী লীগের মতো পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে কেউই মেনে নিতে চাচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে নিউইয়র্কে বসবাসরত মূলধারার রাজনীতিক ওসমান চৌধুরী বলেন, এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশের মানুষ আশা করেছিলেন যে, সত্যিকারের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু গত ৩৩ বছরেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। চব্বিশের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর এবারের নির্বাচনে বিজয়ীরা সে প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন বলে আমরাও আশা করছি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নঈম নিজামের মা আর নেই

০৮ জানুয়ারি ২০২৬

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১