পুরুষাঙ্গের আকারের রহস্য উন্মোচন বিজ্ঞানীদের

জাগো প্রহরী ডেস্ক

২৫ জানুয়ারি ২০২৬

পুরুষাঙ্গের আকারের রহস্য উন্মোচন বিজ্ঞানীদের

Male private organ

‘আকার বড় হওয়া জরুরি বা আকারটাই সব’ শুনতে অনেকটা চটকদার বিজ্ঞাপনের মতো মনে হলেও বিবর্তন বিষয়ের বিজ্ঞানীদের কাছে মানুষের পুরুষাঙ্গের গঠন ও আকার সত্যিই এক বিস্ময়কর রহস্য ছিল এতদিন।

আন্তজার্তিক সংবাদমাধ্যম কনভারসেশন লিখেছে, শিম্পাঞ্জি বা গরিলার মতো অন্যান্য ‘এপ প্রজাতি’র সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় শরীরের গঠন অনুসারে মানুষের পুরুষাঙ্গ বেশি লম্বা ও মোটা। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ অঙ্গটির প্রধান কাজ যদি কেবল প্রজননের জন্য শুক্রাণু স্থানান্তর করাই হয় তবে সমগোত্রীয় প্রাণীদের চেয়ে মানুষের পুরুষাঙ্গ কেন বড়?

বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘প্লস বায়োলজি’তে প্রকাশিত নতুন গবেষণা বলছে, মানুষের ক্ষেত্রে বড় পুরুষাঙ্গ কেবল প্রজনন নয়, বরং আরও দুটি বিশেষ উদ্দেশ্যে বিবর্তিত হয়েছে। সঙ্গীকে আকৃষ্ট করতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে নিজেদের ক্ষমতার জানান দিতে।

কেন পুরুষাঙ্গ এতটা দৃশ্যমান?

মানুষের শরীরের গঠন কেন এমন হল তা বিবর্তন বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এক আলোচনার বিষয়। এরইমধ্যে গবেষকরা জানেন যে, বেশি উচ্চতা ও ‘ভি’ আকৃতির সুঠাম দেহ একজন পুরুষের যৌন আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তবে বড় আকারের পুরুষাঙ্গের প্রভাব ঠিক কতটা সে সম্পর্কে ধারণা বেশ কম। পোশাক আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই মানুষ সোজা হয়ে হাঁটতে শুরু করেছিল। ফলে বিবর্তনের দীর্ঘ সময় জুড়ে পুরুষাঙ্গটি সঙ্গী বা প্রতিপক্ষ উভয়ের কাছেই খুব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।

কিন্তু এ দৃশ্যমানতাই কি এর আকার বড় হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ?

১৩ বছর আগে এক যুগান্তকারী গবেষণায় ৩৪৩টি ভিডিওর মাধ্যমে নারীদের সামনে কম্পিউটার-জেনারেটেড কিছু পুরুষ দেহ তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে পুরুষদের উচ্চতা, শরীরের গড়ন, বিশেষ করে কাঁধ ও কোমরের অনুপাত এবং পুরুষাঙ্গের আকারে ভিন্নতা ছিল।

সেই গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, নারীরা সাধারণত লম্বা, চওড়া কাঁধ ও বড় পুরুষাঙ্গের অধিকারী পুরুষদের বেশি পছন্দ করেন। ওই সময় খবরটি বিশ্বজুড়ে বেশ সাড়া ফেলেছিল। তবে সেটি ছিল গল্পের কেবল অর্ধেকটুকু।

নতুন গবেষণা বলছে, পুরুষরাও অন্য পুরুষের যৌনাঙ্গের আকারের দিকে একইভাবে নজর দেয়।

দ্বিমুখী ভূমিকা?

প্রাণিজগতের অনেক প্রজাতির মধ্যেই এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের দেখা মেলে, যা পুরুষদের মধ্যে খুব প্রকট। যেমন সিংহের কেশর বা হরিণের শিং। এসব বৈশিষ্ট্য মূলত দুটি কাজ করে। প্রথমত, এগুলো স্ত্রী প্রাণীদের আকৃষ্ট করে এবং দ্বিতীয়ত এগুলো অন্য পুরুষদের কাছে তাদের শক্তির জানান দেয়। এতদিন পর্যন্ত গবেষকরা জানতেন না যে, মানুষের পুরুষাঙ্গের আকারের ক্ষেত্রেও এমন কোনো দ্বিমুখী ভূমিকা রয়েছে কি না।

নতুন এ গবেষণায় আগের সেসব ফলাফলের সত্যতা আবারও মিলল, যেখানে নারীরা বড় আকারের পুরুষাঙ্গকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন। তবে এবার বাড়তি কিছু নিয়ে পরীক্ষা করেছেন গবেষকরা।

গবেষকরা খতিয়ে দেখেছেন, পুরুষরাও কি মনে করে যে বড় পুরুষাঙ্গের অধিকারী পুরুষ নারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয়? প্রথমবারের মতো তারা এটিও জানার চেষ্টা করেছেন, পুরুষরা কি বড় আকারের পুরুষাঙ্গকে একজন বিপজ্জনক প্রতিপক্ষের সংকেত হিসেবে গণ্য করেন কি না।

এসব উত্তর খোঁজার জন্য আটশরও বেশি অংশগ্রহণকারীকে এমন ৩৪৩টি পুরুষ দেহ দেখিয়েছে গবেষণা দলটি, যেগুলোর উচ্চতা, শরীরের গড়ন ও পুরুষাঙ্গের আকারে ভিন্নতা ছিল। অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ এসব দেহ সরাসরি বড় পর্দায় দেখেছেন এবং বাকিরা তাদের কম্পিউটার বা ফোনে দেখেছেন।

নারীদেরকে প্রশ্ন করা হয়েছে, এসব দেহ কতটা যৌন আবেদনময় বা আকর্ষণীয়। আর পুরুষদের প্রশ্ন করা হয়েছে, এসব দেহকে তারা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কেমন দেখছেন, অর্থাৎ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তারা কতটা ভয়ংকর বা নারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেই বা কতটা শক্ত প্রতিযোগী হতে পারে।

গবেষণায় যা উঠে এল :

নারীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বড় পুরুষাঙ্গ, অধিক উচ্চতা ও ‘ভি’ আকৃতির সুঠাম দেহ আকর্ষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এখানে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট সীমার পর উচ্চতা বা পুরুষাঙ্গের আকার বাড়লেও তা আকর্ষণের ক্ষেত্রে খুব একটা বাড়তি প্রভাব ফেলে না।

এক্ষেত্রে আসল চমকটি এসেছে পুরুষদের কাছ থেকে। পুরুষরা মনে করেন, যে পুরুষের পুরুষাঙ্গের আকার বড়, লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নারীদের আকৃষ্ট করার দৌড়ে সে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। একইভাবে, বেশি উচ্চতা ও চওড়া কাঁধের পুরুষদেরও তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

এখানে নারী ও পুরুষদের ভাবনার মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। নারীদের কাছে একটি সীমা পেরোনোর পর অতিরিক্ত বড় আকার আর আকর্ষণীয় থাকে না। তবে পুরুষরা মনে করেন, এসব বৈশিষ্ট্য যেসব পুরুষের মধ্যে যত বেশি থাকবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বী তত বেশি শক্তিশালী হবে।

আরেকটি বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, গবেষণার ফলাফলের ধারাবাহিকতা। অংশগ্রহণকারীরা এসব পুরুষ দেহ সামনাসামনি বড় পর্দায় দেখুক বা তাদের মোবাইল বা কম্পিউটারের ছোট স্ক্রিনেই দেখুক না কেন উভয় ক্ষেত্রেই ফলাফলে কোনো পার্থক্য মেলেনি।

সীমাবদ্ধতা :

মনে রাখা জরুরি, মানুষের পুরুষাঙ্গ মূলত বিবর্তিত হয়েছে শুক্রাণু স্থানান্তরের জন্য। তবে গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, পুরুষাঙ্গ একটি জৈবিক সংকেতও বটে। মানুষের পুরুষাঙ্গের আকার বড় হওয়ার পেছনে নারীর যৌন পছন্দ ও পুরুষদের নিজেদের শারীরিক সক্ষমতার জানান দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা উভয়ই বড় ভূমিকা রাখে।

তবে পুরুষাঙ্গের আকার আকর্ষণের ক্ষেত্রে যতটা প্রভাবশালী (৪ থেকে ৭ গুণ বেশি) লড়াইয়ের সক্ষমতা বোঝাতে ততটা নয়। পুরুষদের আধিপত্যের প্রতীক হওয়ার চেয়ে নারীদের আকৃষ্ট করার এক ‘যৌন অলঙ্কার’ হিসেবেই বেশি বিবর্তিত হয়েছে পুরুষাঙ্গ।

গবেষণায় মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যও ফুটে উঠেছে। গবেষকরা বলছেন, মানুষ কত দ্রুত এসব দেহকে রেটিং দিয়েছেন সে তুলনায় দেখা গেছে, যেসব দেহের উচ্চতা কম, দেহ সুঠাম নয় ও পুরুষাঙ্গ ছোট সেগুলোকে খুব দ্রুত রেটিং দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা।

এ দ্রুত সাড়া দেওয়া থেকে ইঙ্গিত মেলে, অবচেতনভাবেই মানুষ এসব বৈশিষ্ট্যকে তাৎক্ষণিকভাবে কম আকর্ষণীয় বা কম শক্তিশালী হিসেবে ধরে নেন।

তবে এ গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে কেবল উচ্চতা, পুরুষাঙ্গের আকার ও দেহের গড়ন নিয়ে কাজ করেছে গবেষণা দলটি। তবে বাস্তব পৃথিবীতে মানুষের চেহারা বা ব্যক্তিত্বও আকর্ষণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। এসব বিষয় একে অপরের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা দেখার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১