ঢাকা সংবাদদাতা
২৪ জানুয়ারি ২০২৬
BNP VS Jamaat
কুমিল্লায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ‘ভারতের সঙ্গে আপস’ বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার’ বলে খণ্ডন করেছে বিএনপি। ২৪ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর গুলশানের বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান জানান দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
এর আগে একদিন আগে অর্থাৎ ২৩ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ আসনে দলটির প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সেখানে এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, একটি দল নতুন করেছে। তারা আবার দেশ শাসনের জন্য বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়। এ দেশের মানুষ, চার কোটি যুবক এটা হতে দেবে না।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, দেখুন, একটি রাজনৈতিক দলের খুব প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে যে দাবিটি করেছেন এবং তিনি একটি মিডিয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। ভবিষ্যতেও তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, কারণ যে তথ্য তিনি মিডিয়ায় এসেছে বলে দাবি করেছেন, সেটির ন্যূনতম কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে বিতর্ক তৈরি করার জন্য এটি একটি রাজনৈতিক অপকৌশল, অপপ্রচার? এটাকে ‘অপকৌশল’ আখ্যা দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারতের সাথে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার।
বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে ‘ইতিবাচক রাজনীতি’কে বোঝে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো অপপ্রচার, অপকৌশল, অপরাজনীতি করা উচিত না। কারণ বিএনপির রাজনীতি মানেই তো বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের ক্ষমতায়ন।
বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ডের উদাহরণ দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেখেছি তিস্তার পাড়ে, পদ্মার পাড়ে পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য ধারাবাহিকভাবে বিশাল প্রোগ্রাম করা হয়েছে, সমাবেশ করা হয়েছে। এটি তো বিএনপির রাজনীতি। সীমান্তে ফেলানী হত্যার পরে সবার আগে প্রতিবাদ করেছিল বিএনপি।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো—এটি তো শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনীতি।
এমন অপপ্রচারের বিরুদ্ধ অবস্থান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের জন্য আমাদের নেতার নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা করবে। এই রকম অপপ্রচার না হওয়া, সেটি আমাদের প্রত্যাশা।
মাহদী আমিন ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড নিয়ে প্রতারণা চলছে বলে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা চাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের যে পরিকল্পনা, ইতোমধ্যে তা দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে, সমাদৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, ইনশাআল্লাহ তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ডগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি কেউ এই বিষয়ে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে আপনারা আমাদেরকে অবহিত করবেন এবং অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হবেন।
মাহদী আমিন আরও জানান, বিএনপি একটি নির্বাচনী হটলাইন চালু করেছে—১৬৫৪৩। সেইসঙ্গে নতুন হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইন নম্বর দিয়েছে—০১৮০৬৯৭৭৫৭৭।
তিনি বলেন, শহর ও গ্রামসহ পুরো দেশব্যাপী সকল নাগরিককে সম্পৃক্ত করে একটি স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্য এবং নাগরিক বান্ধব নির্বাচন পরিচালনা এবং পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যেই হটলাইনের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ যোগাযোগ করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান পেয়েছেন।