নিউইয়র্কে কবিতার ক্যারাভান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ জানুয়ারি ২০২৬

নিউইয়র্কে কবিতার ক্যারাভান

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারি কবিরা। ছবি-জাগো প্রহরী।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে জুইশ সেন্টারে গত ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো কবিকণ্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ ও কবিতা নিয়ে আলোচনার চমৎকার এক অনুষ্ঠান ‘নিউইয়র্কে কবিতার ক্যারাভান’। কবি তাপস গায়েন অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন। সূচনা পর্বে তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এক এক করে ডেকে নেওয়ার সময় প্রত্যেক কবির কাব্যকীর্তি এবং শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁদের অবদানের বিষয় তুলে ধরে কবিতা ও কাব্যকলা সম্পর্কে তাঁর ভাবনা, কেন তিনি কবিতা লেখেন, আগামী দিনের কবিতা নিয়ে কথা বলতে আমন্ত্রণ জানান এবং সেই সঙ্গে স্বরচিত কয়েকটি করে কবিতা পাঠ করার আহ্বান জানান।

কুমার চক্রবর্তী ধীমান প্রচুর পড়াশোনা করা কবি। তাঁর গদ্য সাহিত্যের ভাষা সমৃদ্ধ। কবিতায় তাঁর কণ্ঠস্বর একেবারেই ভিন্ন এবং গভীর। তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধ দুই-ই পাঠে আগ্রহ জাগিয়ে রাখে। প্রাবন্ধিক ও কবি রাজু আলাউদ্দিন একজন বিখ্যাত অনুবাদক। বিশেষত ল্যাটিন সাহিত্যে তাঁর অবাধ বিচরণ। মূল স্প্যানিশ ভাষা থেকে বাংলার পাঠকদের জন্য তিনি মূল্যবান সব কাজ করেছেন। তিনি অনুবাদের গুরুত্বসহ তুলনামূলক সাহিত্য বিষয়ে কথা বলেন। কবি সৌম্য দাশগুপ্ত কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং সংগীতজ্ঞ। তাপস গায়েন তাঁকে দুই বাংলার সাহিত্য জগতের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে অভিহিত করেন। দেশ-কালের সীমানা দ্বারা কবি ও কবিতাকে বেঁধে দেওয়া যায় না-সৌম্যও এমনটি উচ্চারণ করেন। স্বনামখ্যাত ছোটগল্প লেখক নাহার মনিকার কবিতাও তাঁর গদ্যের মতো সুন্দর ও পেলব, গভীর জীবনবোধ সম্পন্ন। রাকীব হাসান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী। সেই সঙ্গে তিনি আপাদমস্তক কবি।

চৌধুরী সালাউদ্দিন আহমেদ বিখ্যাত লিটল ম্যাগ ‘রক্তবীজ’-এর সম্পাদক। কবি ও কবিতার প্রতি তাঁর প্রবল আসক্তি রয়েছে। তিনি সঞ্চালকের আহ্বানে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন। স্বরচিত চারটি কবিতা পাঠ করতে গিয়ে কবি, প্রাবন্ধিক ফারুক ফয়সল কবিতাগুলোর পাঠের ফাঁকে রচনার পটভূমি এবং কবিতা আসলে কী, কে কবি, কেন কবি সেসব বিষয়ে প্রাঞ্জল আলোচনা করেন। রাকীব হাসান তাঁর শিল্পকর্ম ও কবিতার সমীকরণ করেন ‘আমিও এক বাংলাদেশ। আমি যেখানে দাঁড়াই, সেখানে দাঁড়িয়ে যায় ১৯৫২, ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু। তাঁদের সম্মুখে দাঁড় করিয়েই আমার শিল্পযাত্রা শুরু হয়, হবে কবিতা পড়ার এই প্রহরেও।’

তাপস গায়েন তাঁর ভিন্ন ভিন্ন কাব্যগ্রন্থ থেকে কয়েকটি কবিতা পাঠ করেন। রাজু আলাউদ্দিন শ্রোতাদের প্রশ্নের জবাব দেন। তাপস গায়েন অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়, কিন্তু নিশ্চিত জানি-এ অনুরণন তুলবে আগামী বেশ কিছুদিন।

উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে ছিলেন সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আবেদীন কাদের, প্রাবন্ধিক ও গবেষক আহমাদ মাযহার, কবি ও অধ্যাপক হোসাইন কবীর, শিশু-সাহিত্যিক নসরৎ শাহ, শিশু-সাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী, কবি, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী রওশন হাসান, কবি ও অনুবাদক, আর্কিটেক্ট লায়লা ফারজানা, কবি শাহীন ইবনে দিলওয়ার, মোহাম্মাদ আলমগীর বাবুলসহ কবি ও কবিতাপ্রেমী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১