ডিসি প্রতিনিধি
১৭ জানুয়ারি ২০২৬
Guests and Speakers In a Seminar at Washington University of Science and Technology, Virginia
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় ১১ জানুয়ারি ‘ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’তে ইউএস-বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিল (ইউবিএসি)-এর উদ্যোগে ‘দ্য আপকামিং ইলেকশন ২০২৬ অ্যান্ড দ্য রোল অব সিভিল সোসাইটি’ শীর্ষক এক আলোচনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে কর্মরতরা। আলোচনায় বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে এক কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। যা থেকে পরিত্রাণে দেশ ও প্রবাসের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থার মধ্যে বন্দী ছিল। বর্তমানে জনগণের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের নেতা নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি কোনো ধরনের ভয়, ভীতি বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কখনোই তিনি হাল ছাড়েননি। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার জন্য তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী শক্তিগুলোকে কৃতিত্ব দেন এবং বলেন, এই অভ্যুত্থান না হলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন সম্ভব হতো না। তিনি ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভার্জিনিয়ার স্টেট সিনেটর সাদ্দাম সেলিম বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি সর্বদা গভীর নজর রাখেন উল্লেখ করে আরো বলেন, কংগ্রেশনাল কমিটিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ছাত্র আন্দোলন, ড. ইউনূস সরকারের বিভিন্ন সাফল্য এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচন হবে একটি উদাহরণমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং এতে গঠিত সরকার জনগণের কথা শুনবে। পাশাপাশি তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মার্কিন রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন ‘ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিল’র চেয়ারম্যান, লেখক ও সংগঠক সামছুদ্দীন মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী হাসান চৌধুরী।
মূল বক্তা হিসেবে নিউজার্সির মনমাউথ ইউনিভার্সিটির ডিন প্রফেসর ড. গোলাম এম. মাতবর বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে। তবে একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, সুশীল সমাজের পরিধি শুধু সাধারণ জনগণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্যে এনজিও, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সবস্তরের মানুষ অন্তর্ভুক্ত। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী শাসনের আশঙ্কা থেকে যেতে পারে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. নজরুল ইসলাম, মেজর (অব.) মনজুরুল হক, ডা. আহমেদ খান সেলাল, ড. আনোয়ার করিম, রফিকুল হক, শামীম সেলিমুদ্দীন এবং স্যাম রিয়া।
আলোচনায় মেজর (অব.) মনজুরুল হক বলেন, বর্তমানে একটি বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সুশীল সমাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। আগামী নির্বাচনেও এমন ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। ডা. আহমেদ খান সেলাল বলেন, সুশীল সমাজকে শুধু নির্বাচনের সময় সক্রিয় থাকলেই চলবে না; রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের কার্যকর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আগামী সরকার হবে জনগণের সরকার এবং জুলাই সনদে সবার অংশগ্রহণ ও মতামত প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।
ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে সুশীল সমাজ নিয়ে কাজ করে আসছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনে সুশীল সমাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ড. আনোয়ার করিম বলেন, বাংলাদেশ একটি নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে এবং এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে এগোনো সম্ভব নয়।
রফিকুল হক বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে আসন্ন নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা আয়োজনের জন্য ইউবিএসি ও এর চেয়ারম্যান সামসুদ্দীন মাহমুদকে ধন্যবাদ জানান। শামীমা সেলিমুদ্দীন বলেন, গত বছর ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিল একটি সফল সেমিনারের আয়োজন করেছিল। এ বছরও এমন সফল আয়োজনের জন্য তিনি উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানান। স্যাম রিয়া বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি নারীদের অধিকতর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বিশেষ করে নির্বাচনের মাধ্যমে আরও বেশি নারী প্রতিনিধিকে নেতৃত্বে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সামছুদ্দীন মাহমুদ বলেন, ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিল সরকারে অংশীদার হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, একটি নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সুশীল সমাজকে প্রকৃত অর্থে একটি কার্যকর ‘বার্গেনিং এজেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সুশীল সমাজকে সক্রিয় থাকতে হবে। সবশেষে কণিকা খান এবং ডিএমভি এলাকার জনপ্রিয় শিল্পী শোয়েব রহমানের পরিবেশনায় বাংলা ও ইংরেজি গান পরিবেশিত হয়।