নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জানুয়ারি ২০২৬
Homecare Fraud in USA
হোমকেয়ারের নামে হরিলুটের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই নিউইয়র্ক সিটিতে অন্তত ৪ অফিসে হানা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কাউকে গ্রেফতারের সংবাদ পাওয়া যায়নি। এর ফলে ‘আলাউদ্দিনের চেরাগ’ হাতে পাবার মতো হঠাৎ অর্থবিত্তের দাপট দেখাতে অভ্যস্তদের আনাগোনা কিছুটা হলেও কমেছে। হোমকেয়ারের নামে বছরের পর বছর মৃত ব্যক্তি এবং বাংলাদেশে বাস করা ব্যক্তিদের নামে কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের নামে মোটা অর্থ হাতিয়ে নেয়া বেশ কিছু প্রবাসীর আত্মগোপনে যাবার সংবাদও পাওয়া যাচ্ছে।
গত ৮ জানুয়ারি নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর সংবাদেও বাংলাদেশিদের কাহিনী রয়েছে। ম্যানহাটানে বসবাসরত বেলাল হোসেন ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ৬ বছর মায়ের হোমকেয়ারের বিল বাবদ মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ডলার ড্র করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে তার মাকে দেখতে চাইলে ছোট ভাইকে মা বানিয়ে টেলিফোনে চিকিৎসা-সেবার ফলোআপ করেছেন। উল্লেখ্য, বেলালের মা পুরো সময়ের একদিনও ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রে, ছিলেন বাংলাদেশে। এমন প্রতারণা ও চুরির দায়ে এফবিআই বেলালকে গ্রেফতার করেছে।
পাকিস্তানি, ইহুদিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির সংস্পর্শে এসে কিছু প্রবাসী নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ইত্যাদি স্টেটে হোমকেয়ার ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। তারা সরকারের এই বিশেষ সুবিধার অপব্যবহার করার মাধ্যমে রাতারাতি মোটা অর্থ কামিয়ে কেউ কেউ কমিউনিটির সর্দার বনেছেন। কেউ কেউ ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের সংবাদে মিনেসোটায় হোমকেয়ার/এডাল্ট ডে কেয়ারে হরিলুটের প্রসঙ্গ টেনে নিউইয়র্কে হোমকেয়ার নিয়ে জালিয়াতি-প্রতারণার বিরুদ্ধেও সাড়াশি অভিযানের ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মিনেসোটায় হোমকেয়ার জালিয়াতির সাথে সোমালি ইমিগ্র্যান্টরা জড়িত বলে খোদ ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছে। সেখানকার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে পর্যন্ত টার্গেট করা হয়েছে। নিউইয়র্ক অঞ্চলে হোমকেয়ার জালিয়াতি/প্রতারণার কেন্দ্রবিন্দুতে পাকিস্তানি আর বাংলাদেশিরা রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা। এরই অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশী অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত সন্দেহে বিভিন্ন অফিসে মনিটরিংয়ের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আরো জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে লুটের টাকা এনে নিউইয়র্কে নানা ধরনের ব্যবসায় লিপ্ত একটি মহলের অফিগের নজরদারি শুরু হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, হোমকেয়ার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতদের কেউ কেউ স্বনামে-বেনামে সম্পত্তি কিনেছেন। কেউ কেউ অন্য দেশে তা পাচারও করছেন। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপ ছাড়িয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগও নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মনিটরিং জোরদার হওয়ার সংবাদে কমিউনিটি স্বস্তিবোধ করছে।
উল্লেখ্য, বছর দেড়েক আগে নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ক্যাথি হোকুল হোমকেয়ারের আড়ালে লুটতরাজের সংবাদে অতিষ্ঠ হয়ে পুরো ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলায় আনার পদক্ষেপ নিয়েছেন। জর্জিয়ার আটলান্টাস্থ একটি মাত্র সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অরাজক অবস্থার অবসান ঘটাতে। এর ফলে অনেকে ক্ষুব্ধ-বিরক্ত। ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করে মনিটরিং ব্যবস্থা রুখে দেয়ার আন্দোলনের পাশাপাশি স্টেট পার্লামেন্টে দেন-দরবারের ঘটনাও ঘটেছে। কাজের কাজ কিছুই না হলেও কিছুটা সম্বিৎ ফিরে পেয়েছেন। হোমকেয়ার/সিডিপ্যাপের ম্যানেজারের লেবাস লাগিয়ে যারা কমিউনিটির সর্দার বনেছিলেন তাদের কেউ কেউ গা ঢাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে আছেন যারা কেয়ারগিভার হয়েও ন্যায্য পারিশ্রমিক পাননি বলে ওইসব ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ পেশ করেছেন। আবার এমনও কয়েকজন রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে লোকজনকে ঠকানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সবাই এখন অধীর আগ্রহে রয়েছেন হঠাৎ প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক বনে যাওয়া লোকজনের স্বরুপ উদঘাটনের ঘটনাবলি অবলোকজনের জন্য।
এর আগে এই কমিউনিটিতে আরো কয়েকবার হঠাৎ বিত্তশালী হওয়া লোকজনের পরিণতি দেখেছেন প্রবাসীরা। ক্রেডিট কার্ড ও রিয়েল এস্টেট জালিয়াতি, ধাক্কা ব্যবসাসহ সহজ সরল প্রবাসীদের গোপন তথ্য প্রতারকচক্রের কাছে পাচারের মাধ্যমে রাতারাতি বিত্তশালী হয়ে যাওয়া অনেকের ঠাঁই হয়েছে কারাগার কিংবা পালিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভিন্ন নামে বিভিন্ন দেশে।