নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি ২০২৬
সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের কম্বল বিতরণ-কর্মসূচির প্রাক্কালে বিশেষ মোনাজাতে মরহুম সাদেক আলী ও মরহুমা বেগম চাঁন বানুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। ছবি-জাগো প্রহরী।
শেরপুরে শীতার্ত হতদরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে সাদেক আলী ফাউন্ডেশন। গত ৯ জানুয়ারি শেরপুর সদর উপজেলাধীন চর জংগলদী গ্রামে মরহুম সাদেক আলীর বাড়িতে দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল করিমের সভাপতিত্ব ও খালেদ মোশাররফ জনির পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জামালপুর জেনারেল পোস্ট অফিসের সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল শেখ ফরিদ, স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ জাবেদ আলী, খুনুয়া মৌলভীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম, সমাজকর্মী শামীম হোসেন, ও চর জংগলদীর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ মিয়া প্রমুখ।
সুন্দর কম্বল হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বৃদ্ধা হাজেরা বেগম। তিনি বলেন, ‘সাদেক আলী ফাউন্ডেশন প্রতি বছরের মতো এবারও হাড় কাঁপানো শীতে আমার মত গরীবদের মাঝে অনেক কম্বল দিয়েছে। এ জন্য আমরা ভীষণ খুশী। তিনি সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবুল কাশেম লেবুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করে বলেন, ‘আমি তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’
শীতবস্ত্র প্রাপ্ত আয়নাল হক বলেন, ‘সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নিউইয়র্ক-প্রবাসী আবুল কাশেম কিছু একটা দিবে এই আশায় আমরা ছিলাম। প্রতিবারের মতো এবারও সুন্দর একটা কম্বল পেয়েছি, এজন্য আমি খুব খুশী। আমি তাঁর মরহুম বাবার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাঁর বাবাকে বেহেশত নছিব করেন। চকচকে রংয়ের কম্বল হাতে পেয়ে ‘অশীতিপর বৃদ্ধা মালেকা বিবি তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি খুবই গরিব, প্রচন্ড ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাবে ভীষণ কষ্ট করছি। সমাজের ধনী মানুষেরা ভুলেও আমাদের মনে করে না। আমেরিকায় এত দূরে থেকেও আমাদের জন্য লেবু মিয়া কম্বল দিয়েছেন, এ জন্য আমি ভীষণ খুশী। আমি মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করছি।’
বিশেষ অতিথি স্থানীয় ইউপি সদস্য জাবেদ আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিক আবুল কাশেম লেবু উদার সমাজসেবী নরম মনের ও পরোপকারী একজন মানুষ। তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে কেউ খালি হাতে ফিরেছেন এমন তথ্য আমার জানা নেই। আমাদের সমাজে অনেক ধনী মানুষ রয়েছে কিন্তু তাদের দান করার মতো উদার মন-মানসিকতা নেই। আবুল কাশেম লেবু তাদের মাঝে ব্যতিক্রম একজন মানুষ। এজন্য তিনি প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার। তিনি বলেন, আবুল কাশেমের সাংস্কৃতিক চেতনা, শিক্ষানুরাগী-বিদ্যুৎসাহী মরহুম বাবা সাদেক আলীর নামে ফাউন্ডেশন করে প্রতি বছর হাজার হাজার টাকা খরচ করে শিক্ষাবৃত্তি, দরিদ্র মানুষের মাঝে অর্থ, বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন, তা আমাদের কাছে শিক্ষণীয়। প্রবাসী ভাইয়েরা ও সমাজের ধনী মানুষেরা যদি এভাবে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে তাহলে আমাদের সমাজের দরিদ্র মানুষের অনেক উপকার হবে। তিনি তার মতো সমাজের ধনী মানুষদের এভাবে দান-খয়রাত করার আহ্বান জানান। অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সাদেক আলী ফাউন্ডেশনের পরিচালক রেজাউল করিম রিফাত, আইনুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, জাহাংগীর আলম প্রমুখ।

উল্লেখ্য নিউইয়র্কে বসবাসরত সাংবাদিক আবুল কাশেম ২০১৬ সালে তাঁর বিদুৎসাহী বাবা মরহুম সাদেক আলীর নামে এ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। নিয়মিতভাবে শেরপুর জেলার সদর উপজেলাধীন চর জংগলদী রাহেতুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি বছর পাঁচটি ক্লাসে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে মেধা বৃত্তি দিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যেই এলাকায় ছেলে-মেয়েদের মাঝে লেখাপড়ার প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কে এবার পরীক্ষায় ভালো করে সাদেক আলী বৃত্তি পাবে? করোনা মহামারীর সময়েও দুর্বল ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে দুই দুইবার নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী বিরতণ করেছেন। এ ছাড়াও সাদেক আলী জামে মসজিদে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা করে আসছে। অনুষ্ঠানে তাঁর বাবা মরহুম সাদেক আলী ও মা মরহুমা বেগম চাঁন বানুর জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মমিনুল হক।