আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জানুয়ারি ২০২৬
Minneapolis Protests over the killing of Renee Nicole Good
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টের গুলিতে রেনী গুড নামে এক শ্বেতাঙ্গ নারী নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে লাখো মানুষ শহরজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) মার্কিন ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই) এর এক কর্মকর্তার গুলিতে রেনি নিকোল গুড (৩৭) নামের এক নারী নিহত হন। এ ঘটনার এক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুড গাড়ি চালিয়ে আইসিই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে গুডের মৃত্যু হলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।
রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, ফেডারেল সরকারের অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারেরও বেশি সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মিনিয়াপোলিসে হওয়া শনিবারের (১০ জানুয়ারি) বিক্ষোভ মিছিলটি ওই পরিকল্পনারই অংশ ছিল।
একদল মেক্সিকান আদিবাসী নৃত্যশিল্পীদের নেতৃত্বে মিনিয়াপোলিসের বিক্ষোভকারীরা গুডকে যেখানে গুলি করা হয়েছে মিছিল নিয়ে সেদিকে যান। তারা গুডের নামে শ্লোগান দেন আর ‘আইসিইকে বিলুপ্ত করার’ দাবি তোলেন। তারা ‘বিচার নেই, শান্তি নেই- আইসিইকে আমাদের পথ থেকে সরিয়ে নিন’ বলে স্লোগান দেন।
৩০ বছর বয়সী প্রতিবাদকারী এলিসন মন্টোগোমারি রয়টার্সকে বলেন, “আমি চরম ক্ষুব্ধ, বিধ্বস্ত। আমার মন পুরোপুরি ভেঙে গেছে। শুধু আশা করছি যে সবকিছু ভালো হয়ে যাবে।”
তীব্র শীতের মধ্যে প্রবল ঠাণ্ডা বাতাস উপেক্ষা করে মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় প্রায় লাখো মানুষের নেমে আসা তুলে ধরেছে এ ঘটনার মানুষ কতোটা ক্ষুব্ধ হয়েছে। বুধবার গুলির ঘটনার পর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। ৩৮ লাখ বাসিন্দার মিনিয়াপোলিসের ক্ষুব্ধ অনেক বাসিন্দাই গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইসিইকে শহর ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নেতারা ও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনার বিষয়ে পুরোপুরি বিপরীত বক্তব্য দিয়েছেন।
মার্কিন ফেডারেল কর্মকর্তারা বলছেন, গুড তার গাড়ি অভিবাসন কর্মকর্তাদের ওপর তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আইসিই কর্মকর্তা জীবন নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন এবং ‘আত্মরক্ষামূলক গুলি’ ছোড়েন। পরে ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পও লেখেন, আইসিই-র এক কর্মকর্তা চাপা পড়েছিলেন।
কিন্তু মিনিয়াপোলিসের মেয়র এসব যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওই নারীর ওপর গুলি চালানো কর্মকর্তা ‘বেপরোয়া’ আচরণ করেছেন।
ফিলাডেলফিয়ার শেরিফ রোচেলে বিলালও যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই এজেন্টদেরকে একহাত নিয়েছেন। তিনি এই এজেন্টদেরকে ভুয়া এবং অপেশাদার আখ্যা দেন। এই কর্মকর্তাদের কাজ বৈধ আইন এবং নৈতিক আইন-দু’য়েরই লঙ্ঘন বলে তিনি বর্ণনা করেন।