আন্তর্জাতিক ৬৬ সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ জানুয়ারি ২০২৬

আন্তর্জাতিক ৬৬ সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

জলবায়ু পরিবর্তন থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এবং তুলা উৎপাদনসহ আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ৬৬টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা গুটিয়ে নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ৭ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় উল্লেখ করা উপরোক্ত সংস্থাগুলোর ৩১টি হচ্ছে জাতিসংঘের সাথে সংযুক্ত। নিজেদের গুটিয়ে নেয়ার কারণও উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউস। ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কাজ করে। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব সংস্থার মধ্যে অধিকাংশই কট্টর জলবায়ু নীতি, বৈশ্বিক শাসন এবং মার্কিন সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক শক্তির সাথে সাংঘর্ষিক আদর্শ প্রচারে লিপ্ত।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পরিচালক রিচার্ড গোয়ান বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশগত সহযোগিতা এবং লিঙ্গ অধিকার নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলোর তহবিল প্রদান থেকে বিরত হওয়ার ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এসব সংস্থাকে আধা-সমাজতান্ত্রিক এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তা লিঙ্গ সমতাকে উন্নত করার জন্য কাজ করছে বলে ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে। নিজেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে আইপিসিসি, বৈশ্বিক জলবায়ু গবেষণা এবং নীতি-নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক সংস্থা, ‘গেøাবাল ফোরাম অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ও রয়েছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, বিশ্বব্যাপী প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার সমর্থনকারী প্রধান সংস্থাও রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের উপরোক্ত তালিকায়। গর্ভপাতের পক্ষে কর্মরত সংস্থা থেকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই সমস্ত বরাদ্দ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের ২০২৪ সালের বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গিকার রয়েছে সেটিও প্রদান থেকে বিরত থাকার ঘোষণা ইতিপূর্বেই দেয়া হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ২০২৫ সালের বাজেটে যুক্তরাষ্ট্রের হিস্সা এক বিলিয়ন ডলার প্রদান থেকেও বিরত রয়েছে। যদিও এই অর্থ প্রদানের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসের এসব সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আমেরিকার সার্বভৌমত্বকে সীমিত করার অভিপ্রায়ে কর্মরত সংস্থাগুলো থেকে নিজেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তসমূহ সঠিক ও যুগোপযোগী হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ইউএসএইডকে ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এবং সেই বিলুপ্তির ব্যাপারটির দেখভাল করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে কর্মরত পরিচালক আমান্ডা ক্ল্যাসিং বলেছেন, ওই সিদ্ধান্তে মানবাধিকারের সাথে প্রহসনের ব্যাপারগুলোই দৃশ্যমান হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত অঞ্চলে মানবাধিকার সুরক্ষার সংকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গিকার ছিল তা এখন ভুলুণ্ঠিত হতে চলেছে। স্মরণ করা যেতে পারে, এক বছর আগে অর্থাৎ দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ক্ষমতা গ্রহণের পরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি সংস্থাটিকে ‘ঠুটো জগন্নাথ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা শুধু গলাবাজিতে ব্যস্ত, কাজের কাজ কিছুই করছে না বলেও মন্তব্য করেছেন। তিন দিন আগে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে ফার্স্টলেডিসহ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর জাতিসংঘ মহাসচিবসহ অনেক সদস্য রাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেই ৬৬ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার ওই ঘোষণা এলো।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১