বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা স্টেট ডিপার্টমেন্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা স্টেট ডিপার্টমেন্টের

প্রকাশ্য দিবালোকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের পিটিয়ে হত্যার সময় আশেপাশে থাকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যদেরকে নিরবতা পালনের ঘটনায় বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গিকারে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ড. ইউনূস সরকারের আমলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড অব্যাহত থাকার ঘটনাবলি দৃশ্যমান হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হাসিল করার এ ধরনের হিংস্রতা সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি কী জানতে চাইলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখাপাত্র জাগো প্রহরীর এ সংবাদদাতাকে ২৮ ডিসেম্বর জানান, ‘আমরা সকল ব্যক্তির জন্য জবাবদিহিতার পাশাপাশি ন্যায্য ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া উৎসাহিত করি।

তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা সকল রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানাই এবং বাংলাদেশে সকলের জন্য নিরাপত্তা এবং নিরাপদ জীবন-যাপন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অব্যাহত পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই।’ এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের ইমেইলে পাঠানো জবাবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই মুখপাত্র এসব কথা বলেছেন।

বিশ্বাসযোগ্য কোনো তদন্ত ছাড়াই কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিককে গত বছরের আগস্টের পরে গ্রেফতার এবং আরো অন্তত দুই শতাধিক সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রাণনাশের হুমকি এবং মবক্র্যাসির আতংকে গণমাধ্যমেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা থমকে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসনের অভিমত জানতে চাইলে নাম গোপন রাখার শর্তে ওই মুখপাত্র আরো উল্লেখ করেন, আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা লোকজনের লাগামহীন চাঁদাবাজি এবং চাঁদা না দিলে ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর’ আখ্যা দিয়ে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকির কারণে বহু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিসহ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৫ মাসে অন্তত ২৮০টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারি বেকার হয়ে পড়েছেন। এগুলোর ৭০ শতাংশের অধিক হলেন নারী শ্রমিক। এ ধরনের পরিস্থিতির অবসানে মার্কিন প্রশাসনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি? জবাবে ওই মুখপাত্র আবারো উল্লেখ করেছেন, আমরা সকল নাগরিকের জন্যে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক আইনি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাচ্ছি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের স্বীকৃতি গণতান্ত্রিক বিশ্বে পাওয়া সম্ভব কিনা এ ব্যাপারে স্টেট ডিপার্টমেন্ট কিছু বলেনি। তবে গত ২৩ ডিসেম্বর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির ৫ প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো চিঠিতে নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চিঠিতে তারা লিখেছেন, একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলে ভোটারের একটি বড় অংশ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বাংলাদেশের জাতীয় সংকটের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনের ভ‚মিকার প্রতি এই কংগ্রেসম্যানরা সমর্থন জানালেও একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া মৌলিক মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত অপরাধের দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। ‘আমরা আশা করি, আপনার সরকার বা নির্বাচিত পরের সরকার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে’, যোগ করা হয়েছে চিঠিতে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১