আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ট্রাম্পের দেওয়া ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার হালনাগাদ সংস্করণ নিয়ে দুই নেতা আলাপ করবেন। যে পরিকল্পনায় রাশিয়ার এখনও সমর্থন দেওয়া বাকি।
ট্রাম্পের সঙ্গে পরিকল্পনাটি নিয়ে বৈঠকে বসার আগেই টেলিগ্রামে এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, “এ মুহূর্তে বছরের সবচেয়ে সক্রিয় কূটনৈতিক দিনগুলোরই কয়েকটি অতিক্রান্ত হচ্ছে। নতুন বছর আসার আগেই বহু কিছু সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে।
তবে সমাধান আসবে কিনা তা নির্ভর করছে আমাদের অংশীদারদের ওপর।” ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেই জেলেনস্কি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
এর আগে এক্সে জেলেনস্কি লিখেছিলেন, তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং একইসঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন।
স্টারমারকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার হামলার পরিণতি সম্পর্ক অবহিত করেছেন বলে জানান জেলেনস্কি।
তিনি এখন শিগগিরই ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবন মার-আ লোগো তে পৌঁছবেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
জেলেনস্কি বৈঠকে বসার আগে যেমন ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কথা বলেছেন তেমনি ট্রাম্পও বৈঠকের আগে দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি এই আলাপকে খুবই ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন।
একইদিন ট্রাম্প ট্রুথ স্যোশালে পুতিনের সঙ্গে এই আলাপ হওয়ার কথা জানান। ওদিকে ক্রেমলিনও ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের আলাপ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
চলতি বছর ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েকবারই জেলেনস্কির বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম বৈঠকটি তীব্র বাকবিতণ্ডায় ভেস্তে যায়। তবে অতিসম্প্রতি অক্টোবরে ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকটি অনেকটাই সৌহার্দপূর্ণ ছিল।
এবার ট্রাম্পের সঙ্গে ২৮ ডিসেম্বর জেলেনস্কির বৈঠকের বিষয়টি নির্ধারিত হওয়ার খবর আসে ট্রাম্পের প্রধান আলোচক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা কুশনারের সঙ্গে জেলেনস্কির দীর্ঘ এক ঘণ্টার ফোনালাপের পর।
এই সংলাপে ‘নতুন কিছু ধারণা’ উঠে এসেছে যা সত্যিকারের শান্তির কাছাকাছি যেতে সহায়ক হতে পারে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি।
এর আগে ২৬ ডিসেম্বর জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ৯০ শতাংশ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আমাদের কাজ হচ্ছে সবকিছু ১০০ ভাগ প্রস্তুত, সেটি নিশ্চিত করা।”