বিশেষ সংবাদদাতা
১০ জানুয়ারি ২০২৬
‘ড. নুরুন নবী : আজীবন মুক্তিযোদ্ধা’ চলচ্চিত্রের প্রচ্ছদ, নাতি কোলে সস্ত্রীক ড. নুরুন্নবী (বামে)। ছবি-সংগ্রহ।
একুশে পদকপ্রাপ্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজ্ঞানী, রাজনীতিক, সমাজকর্মী ও লেখক ড. নুরুন্নবী। তার বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামমুখর অনুকরণীয় জীবনের চিত্র নিয়ে ‘ড. নূরুন নবী: আজীবন মুক্তিযোদ্ধা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা নাদিম ইকবাল। নির্মাতা তার উদ্যম ও দক্ষতার ছাপ রেখেছেন নির্মাণশৈলীতে। ড. নুরুন্নবীর লেখা সাড়া জাগানো বই ‘বুলেট অব সেভেন্টি ওয়ান: আ ফ্রিডম ফাইটার্স স্টোরি’ অবলম্বনে নির্মিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের ৫২ বছরের গল্প ফ্রেমবন্দি করেছেন নির্মাতা নাদিম ইকবাল।
বাংলাদেশের গৌরবময় অর্জনের কালজয়ী দৃষ্টান্ত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে সংগ্রাম করে এ বিজয় অর্জন করেছিলেন। এরপর যারা আত্মনিয়োগ করেছেন দেশ গড়ার কাজে ড. নুরুন্নবী তাদের অন্যতম।
ড. নুরুন্নবীর জীবনের গল্পে প্রসঙ্গক্রমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার অংশগ্রহণের গল্প যেমন এসেছে, তেমনি তুলে ধরা হয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়, যুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংকটে নিমজ্জিত হয়েছিল এবং সে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এ দেশের মানুষ নতুন করে সংগ্রামে অংশ নিয়েছিল, উজ্জীবিত হয়েছিল নতুন প্রাণশক্তিতে। যে শক্তির জোগান দিয়েছিল জাহানারা ইমাম, সে শক্তির উৎসে ছিলেন ড. নুরুন্নবী। প্রবাসে থেকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। জাহানারা ইমামের সঙ্গে ড. নুরুন্নবী ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনে যুক্ত হয়ে আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির ওপর মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির অন্যায় আস্ফালনের প্রতিবাদ করেছেন কঠোর ভাষায়। এ প্রতিবাদ তিনি করেছেন কখনো মুখের ভাষায়, বক্তৃতায়, লেখায় আবার কখনো রাজপথের মিছিলে। ‘ড. নূরুন নবী, আজীবন মুক্তিযোদ্ধা’ (‘অ্যা ফ্রিডম ফাইটার ফরএভার’)।
ড. নুরুন্নবীর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান ও বীরত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেলদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ রেখে ভারত থেকে বাংলাদেশে যুদ্ধের যাবতীয় অস্ত্র সংগ্রহ ও বহন করে নিয়ে আসা। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তিনবার ভারতে গিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করার জন্য। সে সময় তিনি যে পথ ধরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছিলেন, যে পথ ধরে গিয়েছিলেন এবং ভারতের যে অঞ্চল থেকে অস্ত্র গোলাবারুদ সংগ্রহ করে নদী পথে এসেছিলেন বাংলাদেশে, সে পথের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে চলচ্চিত্রে। চলচ্চিত্রটিতে দেখানো হয়েছে ড. নুরুন্নবীর জীবন সংগ্রাম, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আদর্শিক সংগ্রাম, সংঘাত, রক্তক্ষরণ, সাংস্কৃতিক বিপর্যয় এবং পুনরায় সংগ্রামের ফলে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংকট থেকে উত্তরণের দৃশ্যপট। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউয়ে ড. নুরুন্নবীকে টাঙ্গাইল মুক্তিবাহিনীর ব্রেইন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সর্বপ্রথম ঢাকায় জাতীয় আর্কাইভ সেন্টারে এবং পরর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় প্রিমিয়ার শোর মাধ্যমে মুক্তিলাভের পর গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ড. নবীর বীরত্বপূর্ণ অবদানের এই তথ্যচিত্রটির ৪৫টি প্রদর্শনী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, ইউরোপের জার্মানি, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সিটিতে। সবকটিতে আসা দর্শকরা বারবার ফিরে গেছেন অতীতের বাংলাদেশে। নতুন প্রজন্মের দর্শকরা চোখের সামনে যেন মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন। এ ধরনের চলচ্চিত্র যত বেশি দেখানো হবে এবং নির্মাণ করা হবে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও নিজের দেশ সম্পর্কে তত বেশি সচেতন হবে। চলচ্চিত্রের প্রতিটি শোতে আসা দর্শকের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। যারা সবাই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। দর্শক সারিতে বসার জায়গা না পেয়ে অনেকেই ওয়াকওয়েতে বসে আর দাঁড়িয়ে পুরো চলচ্চিত্রটি উপভোগ করেছেন। শো শুরুর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রমুগ্ধের মত সব দর্শক সিনেমা দেখেছেন।
সিনেমার কিছু কিছু অংশ দর্শকদের কাঁদিয়েছে। এই সিনেমা তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, দেশ গঠনের পেছনের সংগ্রাম দেখেননি তাদের সে সম্পর্কে জানানো। যারা আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে, দেশ পরিচালনা করবে, দেশের সুনাগরিক হবে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দেশের স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করার মূল্যবোধ জাগ্রত করা। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ড. নুরুন্নবী বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের নেতৃত্বাধীন কাদেরিয়া বাহিনীতে নাম লেখান। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর দায়িত্ব ছিল যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ এবং ভারতের কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ ও বহন করে নিয়ে আসা। তিনি যমুনা নদী দিয়ে নৌকায় অস্ত্র নিয়ে আসতেন। নদীপথের সেই অঞ্চলসহ (ভুয়াপুর ও বাহদুরাবাদ) আসামের গৌহাটি, মেঘালয়ের তুরা ট্রেনিং ক্যাম্প যেখানে ছিল, সেখানে শুটিং হয় এই ডকুমেন্টারির। এছাড়া ড. নূরুন নবীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, টাঙ্গাইলে একাত্তরের স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় শুটিং হয়। ভারতের ২৮ জন সেনা কর্মকর্তা, যাদের সঙ্গে একাত্তরে যোগাযোগ ও বৈঠক হয় ড. নুরুন্নবীর, তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া করা হয় নয়াদিল্লিসহ অন্যান্য শহরে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে কোটা আন্দোলনের আড়ালে জঙ্গিবাদের যে উত্থান ঘটেছে এবং সেই সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করার পর একাত্তরের পরাজিত শত্রুর অপতৎপরতা আবারো বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরী করেছে, তা থেকে বাংলাদেশকে উদ্ধারের জন্য এমন চলচ্চিত্রের ব্যাপক প্রদর্শনীর প্রয়োজনীয়তা বোধ করছেন সচেতন প্রবাসীরা। সন্ত্রাসবাদের জনক মুহম্মদ ইউনূসের কারণে বাংলাদেশে তা প্রদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় প্রবাসে এই ছবি যত বেশী প্রদর্শিত হবে ততই বাংলাদেশকে জঙ্গিমুক্ত করার আন্দোলনে মানুষকে উজ্জীবিত করা সহজ হবে বলে বিদগ্ধজনেরা মনে করছেন। এটি ইতিমধ্যেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ কলেজে (গত ১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ‘স্বামী বিবেকানন্দ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ ডক্যুমেন্টারি ফিল্ম ক্যাটাগরিতে সেরা ছবির স্থান দখল করে।
এদিকে কানাডায় বসবাসরত নির্মাতা ও পরিচালক নাদিম ইকবাল মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং নুরুন্নবীকে নিয়ে ৫০ মিনিটের আরেকটি তথ্যচিত্র ‘কোটি কণ্ঠে প্রতিধ্বনি বঙ্গবন্ধু’ নির্মাণ করেছেন। সম্প্রতি নিউইয়র্ক এবং কানাডায় বিপুল প্রশংসার মধ্য দিয়ে এর প্রিমিয়ার শো হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে যে নামটি অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একটি শোষিত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পথে নেতৃত্ব দেওয়া মানুষটি ছিলেন বাঙালির আশা ও সাহসের প্রতীক। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ-প্রতিটি সংগ্রামে তাঁর কণ্ঠই হয়ে উঠেছিল কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর। বঙ্গবন্ধু শুধু একটি দেশের জন্ম দেননি, তিনি একটি জাতিকে আত্মপরিচয় এনে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল ও তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন। এই নির্বাচনে তাঁর বিশাল বিজয় তাঁকে জাতির কান্ডারি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যে কারণে ক্রমশ জটিল হতে থাকা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণমানুষের ম্যান্ডেট অর্জনকারী বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন মুক্তিকামী জাতির ত্রাতা, জাতির পিতা। একমাত্র তাঁরই বৈধ ক্ষমতা ছিল একটি সার্বভৌম আবাসভূমির জন্য স্বাধীনতা ঘোষণা করার। সেই সূত্রেই প্রশ্নাতীতভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন তিনি, যার পূর্ণ স্বীকৃতি দান করেই রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির পদে তাঁকে রেখে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে নামটি উচ্চারিত হলেই একটি জাতির জাগরণ, সংগ্রাম ও মুক্তির গল্প ভেসে ওঠে-তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন একটি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীনতার স্থপতি এবং বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার অবিসংবাদিত প্রতীক। শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে বঙ্গবন্ধু বাঙালিকে শিখিয়েছিলেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ-প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর নেতৃত্ব বাঙালির মুক্তির পথকে সুস্পষ্ট করেছে। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি একটি নিরস্ত্র জাতিকে প্রস্তুত করেছিলেন সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য, যা বিশ্বের ইতিহাসে স্বাধীনতার আহ্বানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার স্বপ্নও ছিল তাঁরই। স্বাধীনতার পর তিনি চেয়েছিলেন একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ-যেখানে মানুষ পাবে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একটি নতুন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভিত্তি স্থাপন করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেন।
এই প্রামাণ্যচিত্রে আমরা ফিরে তাকাব সেই মহান মানুষের জীবনের পথে, তাঁর নেতৃত্বের গভীরতা, আত্মত্যাগ ও অবিস্মরণীয় অবদানের দিকে-যাঁর জীবন ও আদর্শ আজও প্রেরণা দেয় একটি জাতিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-একটি নাম, একটি ইতিহাস, একটি স্বাধীন বাংলাদেশ।
“কোটি কণ্ঠে প্রতিধ্বনি বঙ্গবন্ধু” কথাটি বোঝায় যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম, তাঁর আদর্শ, ও তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে ধ্বনিত হয় এবং তাঁর কণ্ঠস্বর যেন লক্ষ লক্ষ কণ্ঠের প্রতিধ্বনি হয়ে মিশে আছে, যা স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিরঞ্জীব। এটি তাঁর দূরদর্শিতা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, এবং বাঙালি জাতির মুক্তির আকাক্সক্ষাকে ধারণ করার প্রতীক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। ড. নুুরুন্নবীর লেখা ‘অন্তরঙ্গ জানালায় বঙ্গবন্ধু’ অবলম্বনে নির্মিত ‘কোটি কণ্ঠে প্রতিধ্বনি বঙ্গবন্ধু’তে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের ব্যাপারগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সময়ের প্রয়োজনে যা সকলের প্রশংসা পাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সাহসী এই নির্মাতা নাদিম ইকবাল বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন্নবীর সহযোগিতায় ‘ইউনূস : সন্ত্রাসের জনক’ শীর্ষক ১৯ মিনিটের আরেকটি তথ্যচিত্র তৈরী করেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনার চলমান যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় বসবাসরত বাঙালিদেরকে আরো উজ্জীবিত করতে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুরন্নবী এই পড়ন্ত বয়সেও কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।