নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
US weapon sales To Israel
ইসরায়েলের কাছে আরো ৬.৬৭ বিলিয়ন ডলারের সর্বাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির একটি নতুন চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ৩.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার, রকেট লঞ্চার এবং টার্গেটে সুনির্দিষ্টভাবে আঘাতে সক্ষম অস্ত্র-শস্ত্রও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ৩০ জানুয়ারি জানায় যে, ইসরায়েলের সামরিক শক্তিকে যুগোপযোগী করতে এই নতুন চুক্তির প্রয়োজন ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, শান্তিতে নোবেল পেতে মরিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজায় স্থায়ী ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক কোনো উদ্যোগ গ্রহণের পরিবর্তে ফিলিস্তিনের নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে হত্যায় ইসরায়েলকে আরো সামরিক শক্তির যোগান দিচ্ছেন। এ ধরনের সবিরোধী আচরণ থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা গোটাবিশ্বকে গ্রাস করতে পারে।
যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একটি শক্তিশালী ইসলায়েলকে যে কোনো ধরনের বহিশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষায় সক্ষমতা বিকাশ ও বজায় রাখতে মার্কিন সহায়তা প্রকারান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থেই বড় প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ দুই জেনারেল। বৈঠকটির তথ্য পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ১ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে দিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। তারা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ইয়াল জমির। তবে বৈঠকে তাদের মধ্যে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তার বিস্তারিত জানাননি কর্মকর্তারা। এই বৈঠক নিয়ে এর আগে কোনো খবরও হয়নি।
ইরানি কর্তৃপক্ষ তিন বছরের মধ্যে ফের দেশটিকে নাড়িয়ে দেওয়া সব চেয়ে বড় বিক্ষোভ দমন করেছে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এসব নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই পেন্টাগনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ দুই জেনারেল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কিছু দিন ধরে বারবার ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌ উপস্থিতি ও বিমান প্রতিরক্ষা মজবুত করেছে মার্কিন বাহিনী। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে চাইছেন ট্রাম্প-এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রবিবার ইরানের নেতৃবৃন্দ পাল্টা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালালে তা আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নেবে।
অপরদিকে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার জানায়, জেনারেল জমির ওয়াশিংটন থেকে ফেরার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন । বৈঠকে তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও কোনো সম্ভাব্য ‘দৃশ্যকল্প তৈরি হলে তা মোকাবেলায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর কার্যকরী প্রস্তুতি’ পর্যালোচনা করেছেন।