বিশেষ সংবাদদাতা
০৯ জানুয়ারি ২০২৬
আসল নাম ‘মো. নজরুল ইসলাম’ গোপন করে ভিন্ন নামে ‘আসিফ নজরুল’ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর ঠিক একমাস পর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘আসিফ নজরুল’ হয়েছেন। অর্থাৎ ভ‚য়া নাম-পরিচয়ে আসিফ নজরুল নামক ব্যক্তিটি বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা (মন্ত্রী মর্যাদায়) হয়েছেন। এমন একজন ব্যক্তির কাছে বাংলাদেশের সংবিধান, বিচার বিভাগ কতটা নিরাপদ তা নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে আটলান্টিকের এপাড়েও। সৈকত হাসান নামক এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টিংয়ের কপি নিয়ে কানাডায় বসবাসরত কবি ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল নিজের সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্যটি উপস্থাপনের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীরাও বিস্ময়ে হতবাক।
অনেকের মন্তব্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ‘কোটা বিরোধী ইস্যু’কে সামনে এনে যেভাবে তরুণ সমাজ-সহ গোটা বাংলাদেশকে বিভ্রান্ত করা হয়, ঠিক একইভাবে শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদের সময়েও আসিফ নজরুল নামক টক শো’র মুখ অবিরতভাবে বাংলাদেশে ২৭ লক্ষাধিক ভারতীয় চাকরির নামে মোটা অর্থ নিয়ে যাচ্ছে বলে সহজ-সরল মানুষদের ক্ষেপিয়ে তোলেছিল। শুধু তাই নয়, ঐ আন্দোলনের নেপথ্যে ছিল একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থানের নল-নকশা-সেটিও আড়ালে রাখা হয় আসিফ নজরুলের মত মুখোশধারীদের মিথ্যাচারে।
ফেসবুকে উল্লেখ করা হয়েছে : পরিচয় সংক্রান্ত গুরুতর আইনগত অসঙ্গতি: একটি প্রশ্নবিদ্ধ শপথ। ব্যক্তিটির প্রকৃত ও দীর্ঘদিন ব্যবহৃত নাম নজরুল ইসলাম। এই নামেই তার এসএসসি ও এইচএসসি সার্টিফিকেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স সার্টিফিকেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে চাকরির রেকর্ড, ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সকল সরকারি ও বেসরকারি নথি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। এ অবস্থায় একজন আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি নিজেই কীভাবে আইনের ব্যত্যয় ঘটালেন, সে প্রশ্ন আজ জনমনে জোরালোভাবে উঠছে।
১. শপথ গ্রহণে নামের গুরুতর অসঙ্গতি: ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তিনি শপথ গ্রহণ করেন “আসিফ নজরুল” নামে। কিন্তু শপথ গ্রহণের ওই দিন পর্যন্ত তার সকল বৈধ সার্টিফিকেট ও সরকারি নথিতে নাম ছিল নজরুল ইসলাম।
আইনের দৃষ্টিতে: একজন ব্যক্তি তার বৈধ পরিচয়ের বাইরে অন্য নামে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের শপথ নিতে পারেন না। সুতরাং নজরুল ইসলাম কোনোভাবেই ‘আসিফ নজরুল’ নামে শপথ নিতে পারেন না। এটি শপথের মৌলিক শর্ত লঙ্ঘনের শামিল এবং শপথের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
২. শপথের ত্রুটি ঢাকতে পরবর্তী সময়ে নাম পরিবর্তন : শপথ গ্রহণ যে নিয়মবহির্ভূত হয়েছে তা অনুধাবন করেই পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে ‘আসিফ নজরুল’ করা হয়। প্রশ্ন হলো, শপথের আগে যে নাম বৈধ ছিল না, শপথের পরে নাম বদলে কি সেই ত্রুটি বৈধ করা যায়? উত্তর স্পষ্ট, আইনের চোখে যায় না।
৩. চাকরিরত ব্যক্তির নাম পরিবর্তন : স্পষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের সুস্পষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে কর্মরত কোনো ব্যক্তির নাম বা বয়স সংশোধন করা যায় না। তারপরও প্রভাব খাটিয়ে নাম পরিবর্তন করানো হলে এটি শুধু একটি অনিয়ম নয়, সরাসরি অবৈধ কার্যক্রম। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়াও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অনিয়মের অংশীদার হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন।
৪. শপথবাক্যে সরাসরি মিথ্যা পরিচয় : শপথ গ্রহণের সময় তিনি উচ্চারণ করেন, ‘আমি আসিফ নজরুল শপথ করিতেছি যে’ অথচ সে সময় তার বৈধ নথি অনুযায়ী নাম ছিল নজরুল ইসলাম। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় শপথের মুহ‚র্তেই পরিচয় নিয়ে সরাসরি অসত্য ঘোষণা করা হয়েছে যা নৈতিকতা ও আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর (অপরাধ)।
উপসংহারে উল্লেখ করা হয়েছে : একজন সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে যা গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য হয়, একজন আইন উপদেষ্টা সেই কাজ করলে প্রশ্ন ওঠে আরও গভীরভাবে। এখন প্রশ্ন, জনগণের কাছে এ ধরনের পরিচয় গোপন ও নিয়ম বহিভর্‚ত শপথ কি গ্রহণযোগ্য? আইনের রক্ষক হয়ে কেউ যদি নিজেই আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে বিচার হবে কার কাছে? এই বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি পর্যালোচনার দাবি রাখে।