আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Voting in Bangladesh
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। ভোটের সম্ভাবনা ও আশঙ্কা, কারা পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তা নিয়ে ভারত, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি বিবিসি, রয়টার্স, ডয়েচে ভেলে, গার্ডিয়ানের মতো গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। ভোটের দিনেও বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখ ছিল বাংলাদেশের দিকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ভোটের শুরু থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন লাইভ করে। ‘বাংলাদেশ ভোটস ইন ফার্স্ট ইলেকশন সিন্স জেন-জি আউস্টেড ফর্মার পিএম শেখ হাসিনা’ শিরোনামের খবরে তারা জুলাই সনদ নিয়ে হওয়া গণভোট বিষয়ে মানুষের বিভ্রান্তি, ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-নির্মিত ভিডিওর ছড়াছড়ি, নির্বাচনে তরুণদের প্রাধান্যসহ নানান বিষয় উঠে আসে। এখানেই বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) শাফকাত মুনির বলেছেন, ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশিরা সত্যিকারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার সেই অধিকার ফেরত পাওয়ার উচ্ছ্বাস যেমন আছে, তেমনি আছে সতর্কতাও। প্রতিবেদনে ভোটের সারাদিনকার নানান গুরুত্বপূর্ণ খবরাখবরও দেওয়া হয়।
জেন-জি আন্দোলনের কারণে বিশ্বে প্রথম কোনো সরকার পতনের পর হওয়া বাংলাদেশের ‘ভোট উৎসব’ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ সারি বলে উল্লেখ ছিল। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের পর বাংলাদেশজুড়ে অস্থিরতায় পোশাক খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতকে নানান বাধাবিঘ্ন পাড়ি দিতে হচ্ছে জানিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতি ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টিও তারা তুলে ধরে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রধান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ জাতীয় নির্বাচনের খবর দেয়। ক্ষমতায় গেলে তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘নো টলারেন্স’, পরিচ্ছন্ন রাজনীতির আশ্বাসের কথাও আছে ‘তারেক রহমান প্রমিজেজ এরা অব ক্লিন পলিটিক্স এজ বাংলাদেশ হোল্ডস ফার্স্ট ইলেকশন সিন্স ফল অব হাসিনা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিষয়টিকেও বেশ গুরুত্ব দেয় তারা। বিএনপি জিতলেও জামায়াত এবং তার নেতৃত্বাধীন ইসলামী জোট তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের সেক্যুলার রাজনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হবে এমন আশঙ্কাও আছে তাদের প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশ: ভোটারস হেড টু দ্য পোলস আফটার ২০২৪ আপরাইজিং’ শিরোনামে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ফেব্রুয়ারির ভোটের খবর প্রকাশ করে। এতে হাসিনার দল আওয়ামী লীগের ভোটে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা, ভোট নিয়ে তরুণদের আগ্রহের কথা উঠে আসে। আছে গণভোট এবং নির্বিঘ্নে ভোটদান প্রসঙ্গও।
নিউইয়র্ক টাইমসে ‘স্টুডেন্টস ওন রেভ্যুলেশন ইন বাংলাদেশ, দে ওয়ান্ট সো মাচ মোর’ শিরোনামে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের ভোটের খবর আসে। এখানে গণআন্দোলনপরবর্তী বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি ফুটে উঠে।
খুলনায় জামায়াত নেতার ‘ধাক্কায়’ বিএনপি নেতার মৃত্যু, গোপালগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে হাতবোমা হামলায় তিনজন আহত হওয়াসহ নির্বাচনে সহিংসতার খবর গুরুত্ব পেয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে। ভোটের প্রাক্কালে মৌলভীবাজারে ২৮ বছর বয়সী এক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মৃত্যুর খবর দেয় এনডিটিভি। গোপালগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে বোমা হামলার খবর দিয়েছে চীনা গণমাধ্যম সিনহুয়াও।
রয়টার্সের প্রতিবেদন তুলে ধরে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন। সেখানে ভোটের নানা খুঁটিনাটির পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণআন্দোলন, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস পরবর্তী ভোট নিয়ে মানুষের উচ্ছ্বাসের কথাও আসে।
২৯৯ আসনের সাংসদ নির্বাচন ও গণভোটের খবর নিয়ে লাইভ করে কাতারভিত্তিক বার্তা সংস্থা আল-জাজিরাও। এখানেও আসে ভোট ঘিরে অনলাইনজুড়ে নানান গুজব ও অপপ্রচারের কথা। এসেছে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যেতে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের আহ্বানের কথাও। ঢাকার এক আসনে স্বতন্ত্র এক প্রার্থীর নারী এজেন্টদের বাধা দেওয়ার খবর, দেশের তিন স্থানে কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে জামায়াতের অভিযোগ, গণভোট নিয়ে তরুণ-যুবাদের আগ্রহের খবরও দিয়েছে তারা।