বাংলাদেশ সেন্টার নিয়ে এত মিথ্যাচার কেন?

বিশেষ সংবাদদাতা

১৩ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ সেন্টার নিয়ে এত মিথ্যাচার কেন?

Bangladesh Center

চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করা হয়নি। বিক্রেতার সাথে আলোচনার পর ক্রয়ে আগ্রহী বাংলাদেশ সোসাইটির কাছে চুক্তিপত্রের খসরা পাঠানো হয়। সেই খসরায় প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নানা শর্ত থাকে। ক্রেতা সেসব পরখ করার পর ভবনের যদি কোনো ত্রুটি থাকে বা ভায়োলেশনের ঘটনা থাকে-তাহলে সেসব কীভাবে সংশোধন অথবা অবুমক্ত করা যাবে-তা নিয়ে উভয়পক্ষ আরো বিস্তারিত অঙ্গিকার করবেন-এটাই স্বাভাবিক। সেদিকে না হেঁটে ক্রেতা তথা নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ এবং সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম সোসাইটির ৫০ বছর পূর্তি উৎসবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা ১৮৯-১০ হিলাসাইড এভিনিউ, হলিসে ৪.৯ মিলিয়ন ডলারে একটি ভবন কেনার চুক্তি করেছেন। ডাউন পেমেন্ট হিসেবে দু’লাখ ডলারের পুরোটাই দেবেন শাহনেওয়াজ। ৫০ বছর বয়সী এই সংগঠনের প্রত্যাশা পূরণে এমন ঘোষণায় সকলেই অভিভূত হন এবং করতালিতে মুখর করেন অনুষ্ঠানস্থল। এরপর আরো কয়েকটি অনুষ্ঠানে একই ঘোষণা শোনা যায়।

সবশেষে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশেষ সাধারণ সভায় বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান জানান যে, চুক্তিপত্র বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশ সেন্টার আপাতত হচ্ছে না। বাড়িটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের ভায়োলেশন থাকায় কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন তারা। এ ব্যাপারে অনুসন্ধানকালে ওই ভবনের মালিকপক্ষের একজন ১১ মার্চ অপরাহ্নে টেলিফোনে এ সংবাদদাতাকে জানান যে, বাংলাদেশ সোসাইটির কাছে ভবনটি বিক্রির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তিপত্র হয়নি। তাদের আইনজীবী চুক্তির খসরা পাঠিয়েছিলেন ক্রেতার কাছে। সেটি হাতে পেয়েই তারা প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছিলেন যে, বাড়িটি তারা কিনতে যাচ্ছেন। প্রকৃত সত্য হচ্ছে কোনো ধরনের চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করেননি। এজন্য এখনো ভবনটি বিক্রির নোটিশ ঝুলছে। তবে ওই ভবনের পুরনো একজন ভাড়াটে বাড়িটি ৪.৯ মিলিয়ন ডলারে ক্রয়ের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ক্লোজিংয়ের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জানা গেছে, জ্যাকসন হাইটসের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বহুতল একটি ভবনের মালিকও রয়েছেন ক্রেতার পার্টনার হিসেবে।

নিউইয়র্কে একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের প্রত্যাশা অনেক পুরনো। বাংলাদেশ সোসাইটির বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই এমন অঙ্গিকার করলেও নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সেই অঙ্গিকার বাস্তবায়নের পরিপূরক ন্যূনতম পদক্ষেপ গ্রহণেও সক্ষম হননি। তবে কতিপয় ‘ধাপ্পাবাজ’র খপ্পরে পড়ে কথিত কবর প্রকল্পে মোটা অংকের অর্থ প্রদানের দ্বিধা করেননি সাবেক কমিটির কর্মকর্তারা। এ নিয়ে তুমুল বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে প্রদানকৃত অর্থ ফেরৎ আনার প্রক্রিয়া চলছে। দু’লাখ ডলারের মত একটি চেকে সোসাইটির একাউন্ট থেকে প্রদান করা হলেও ফেরৎ পেতে কিস্তির প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে।

কখনো সাড়ে ২৭ হাজার, আবার কখনো ১৯ হাজারের অধিক সদস্যের বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃত্বে যারা এসেছেন তারা নিজস্ব একটি কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন দূরের কথা, সিটিতে ‘বাংলাদেশ প্যারেড’র অনুমতিও সংগ্রহ করতে পারেননি। নিউইয়র্ক সিটির বিশাল একটি ভোট ব্যাংক তৈরী হয়েছে কমিউনিটিতে। এই ভোট ব্যাংক কাজে লাগাতেও আন্তরিক কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে বর্তমান কমিটির সামান্য অগ্রগতি রয়েছে। আর তা হলো স্টেট এ্যাসেম্বলিওম্যান জেনিফার রাজকুমারের তহবিল থেকে ২০ হাজার ডলারের অনুদান সংগ্রহ। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন থেকেই জেনিফারের অফিসে কাজ করছেন। সেই সম্পর্ককে সোসাইটির সামগ্রিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন এজন্য অনেকে তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অর্থাৎ মূলধারার অনুদান সংগ্রহে যে বন্ধ্যাত্ব ছিল তা দূর হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটির জনসংযোগ সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ এ সংবাদদাতাকে জানান, বড় একটি সুযোগের দরজা খুলে গেছে। আমরা সিটি ও স্টেটে বিভিন্ন পর্যায়ের অনুদানের আবেদন সাবমিট করেছি।

বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব ভবন তথা বাংলাদেশ সেন্টার স্থাপনের দাবিটি সর্বজনীন। তবে তা নিয়ে এত হাস্যরসের প্রয়োজন ছিল না। ক্রয়ের আনুষ্ঠিানিকতা সম্পন্নের পরই জনসমক্ষে তা ঘটা করে প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল। চুক্তিপত্র করা হয়নি তবুও কেন মিথ্যাচার-এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে নানাজনে নানা মন্তব্য করেছেন। সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তাদের অনেকে জানিয়েছেন যে, গত ফেব্রুয়ারিতে বিশেষ সাধারণ সভার এজেন্ডার মধ্যে ছিল কার্যকরী কমিটির মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করার। সেই এজেন্ডা পাশের ক্ষেত্রে এমন মিথ্যাচার ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন অথাৎ যেহেতু তারা এত বড় একটি প্রকল্পে হাত দিয়েছেন, তাই বর্তমান কমিটির মেয়াদ তিন বছরে বৃদ্ধি করা দরকার। ব্যাপারটি ‘ভানুমতির খেল’র মত ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

মেয়াদ তিন বছরে বৃদ্ধির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলেও সেটি কার্যকর হবে পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ীদের ক্ষেত্রে। এ অবস্থায় মিথ্যাচার আর ভন্ডামিতে লিপ্তরা সত্য প্রকাশ করেছেন। তবে সেখানেও ভনিতা করা হয় যে, চুক্তিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। যদিও কোনো চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়নি বলে জানিয়েছেন ভবনটির অন্যতম একজন মালিক। মিথ্যার বেসাতি করা হলো কেন-এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমকে ফোন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি, এমনকি ১১ মার্চ রাতে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত কলব্যাকও করেননি।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Default Advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১